বুধবার   ০৩ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
২৯৩

অনেক স্বপ্ন নিয়ে সিনেমায় এসেছিলাম: জায়েদ খান

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০১৯  

যদি কিছু অসাধু লোকের হাত থেকে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে রক্ষা করা যেত তাহলে আবারো সিনেমার সেই স্বর্নালী যুগ ফিরে পেতাম। অনেক স্বপ্ন, অনেক কষ্ট নিয়ে সিনেমায় এসেছিলাম, সিনেমাকে ভালোবেসে। এখানে প্রতিটা ক্ষেত্রে অনিয়ম করছে কিছু মানুষ, আমার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার যে পায়তারা করছে তা আমরা কোনদিন হতে দেব না। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারন সম্পাদক চিত্রনায়ক জায়েদ খান। 

বুধবার জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের প্রথম দিন ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা এবং উত্তরনের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিনারে এসব কথা বলেন জায়েদ খান। 

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সিনেমা ডিজিটাল হওয়ার শুরুর পর থেকেই চলচ্চিত্র অবনতির দিকে যাওয়া শুরু করে। এর পেছনে কারণ একটি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া এসেই হলগুলো দখল করতে শুরু করলো মেশিন দেয়ার নামে। ছবি রিলিজ থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু নিয়ন্ত্রন করা শুরু করলো তারা, মামলা করে প্রদর্শক সমিতির নির্বাচন বন্ধ করলো এবং এফডিসির বাহিরে একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করলো। কিন্তু তাদের ব্যর্থ চেষ্টা ব্যর্থই হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, জাজ তাদের প্রতিটি সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়ম শুরু করে এবং যৌথ সিনেমা নামে যৌথ প্রতারনাও চালিয়ে গেল। আবার সম্প্রতি প্রদর্শক সমিতি হল বাঁচানোর নাম করে সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার জন্য বিদেশি এনে চালানোর পায়তারা করেলো। রাতের অন্ধকারে বিদেশি ছবি এনে সেন্সর করে জাজের সহযোগিতায় দেশের ছবি মুক্তিতে বাঁধাগ্রস্থ করলো। রাতে একটি ছবি ১০০ হলে মুক্তি দেয়ার জন্য দেশের প্রযোজক প্রস্তুত সেখানে রাতেই মেশিনের অযুহাতে জোর করে কলকাতার পুরানো ছবি এনে মুক্তি দিচ্ছে ৭০ হলে। আর দেশের ছবি মুক্তি পাচ্ছে মাত্র ৩০ হলে। এই যে ষড়যন্ত্র যার ফলে ১-২ কোটি টাকা খরচ করে প্রযোজক সিনেমা বানিয়ে মাত্র কয়েক লাখ টাকা ঘরে নিতে পারছেন। আমি অনেক প্রযোজককে দেখেছি রাতে অন্ধকারে কেঁদে চলে যেতে আর সিনেমা বানাতে আসেনি। আমিও প্রযোজক হিসেবে একটি ছবি রিলিজ করেছি। আমিও জানি একজন প্রযোজকের কি দুঃখ আর জ্বালা। এই যে ষড়যন্ত্র আমার সংস্কৃতিকে ধ্বংশ করার এটা খুবই দুঃখজনক। 

এই নায়ক আরো বলেন, হল মালিকরা বলে বাংলাদেশের ছবি চলে না। বাংলাদেশের ছবি না চললে একটা হাসান ইমাম, ফারুক, আলমগীর তৈরি হতো না। তাদের নিয়ে অনেক কালজয়ী ছবি হয়েছে, সেগুলো কিভাবে হলো? এদেশের নির্মাতা কলাকুশলীরাই তৈরি করেছে। তাদের এখনো আন্তর্জাতিক মানের ছবি নির্মাণের ক্ষমতা রয়েছে। আমার এই অল্প সময়ের ক্যারিকারে যা দেখেছি তা থেকে মনে হয়েছে এখনি সবকিছু একটা সিস্টেমে আনা দরকার চলচ্চিত্রকে বাঁচানোর জন্য। আর যারা অসাধু কাজ করছে তাদের হাত থেকে এই ইন্ডাস্ট্রিকে যদি রক্ষা করা যায় তাহলে সিনেমার সেই স্বর্নালী যুগ আবারো ফিরে পেতাম। 

এই সেমিনারে অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রবন্ধটির উপর আলোচনা করেন। এই সেমিনারে প্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী একেএম খালিদ এএমপি, তথ্য মন্ত্রনালয় সচিব আব্দুল মালেক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, প্রযোজক সমিতির নেতা খোরশেদ আলম খসরু, প্রদর্শক নেতা মিয়া আলাউদ্দিনসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে।  

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর