বুধবার   ১৯ জুন ২০২৪   আষাঢ় ৬ ১৪৩১   ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
সেন্টমার্টিনে বিজিবি ও পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ বাংলাদেশকে সুপার এইটে তুললো বোলাররা দলীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় আসুন ত্যাগের মহিমায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করি: প্রধানমন্ত্রী চামড়া কেনায় ট্যানারি মালিকরা ২৭০ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে
৪১

অভয়নগর-মণিরামপুরের হত্যাকাণ্ড তদন্তে মাঠে ডিবি

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৪  

যশোরের মণিরামপুর ও অভয়নগর উপজেলার অধিকাংশ হত্যাকান্ডগুলো জোরালো তদন্তে মাঠে কাজ করছে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি। মণিরামপুরের যুবলীগ নেতা প্রভাষক উদয় শংকর হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিস্ফোরকসহ চরমপন্থি নেতা সাইফুল মেম্বার আটক হওয়ার পর ওই এলাকার দাগী পলাতক চরমপন্থি কানেকশনের সন্ত্রীদের আটকে নানামুখী গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন করে খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করা হচ্ছে বলেও তথ্য মিলেছে।

এদিকে, আটকের পর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সাইফুল মেম্বারকে আদালতে চালান দিলেও ৩০ মে রিমান্ড মঞ্জুর হয়নি তার। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করেছেন।

মণিরামপুর ও অভয়নগরের অধিকাংশ হত্যাকান্ডে চরমপন্থি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন তথ্য প্রমাণ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আসলে সম্প্রতি জোরদারভাবে মাঠে নেমেছে যশোর ডিবি। এরমধ্যে গোপন তথ্যে ডিবি ২৮ মে রাতে যশোরের চাঁচড়ার একটি মৎস্য খামার থেকে আটক করে শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাহর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত চরমপন্থি নেতা সাইফুল মেম্বারকে। তার কাছ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে ২৯ মে তাকে আদালতে চালান করা হয়। প্রভাষক উদয় শংকর হত্যা ও খুলনা ফুলতলার মিলন হত্যা মামলাসহ দুটি হত্যা মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। 

এদিকে, ৩০ মে রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। রিমান্ডও মঞ্জুর হয়নি তার। আগামী ৩ জুন রিমান্ডের শুনানি হবে বলে গোয়েন্দা শাখাকে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দ সূত্রের দাবি, বিষ্ফোরক মামলায় রিমান্ড চাওয়া হলেও ভারতে পালিয়ে থাকার পর ২০ মে দেশে ফেরায় আটক সাইফুল মেম্বার এখন বেশ আলোচিত। ভারতে এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকান্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখার জন্যও তার জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও দাবি পুলিশের। যুবলীগ নেতা মণিরামপুরের প্রভাষক উদয় শংকর, প্রকাশ মল্লিক হত্যা মামলা ও খুলনার মিলন হত্যা মামলার আসামি ছাড়াও আরও কয়েকটি হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও আসছে।

এ ব্যাপারে ডিবির এসআই মফিজুল ইসলাম মফিজ জানিয়েছেন, আটক সাইফুল চরমপন্থি নেতা ও ঢাকায় আটক শিমুল ভুঁইয়ার সেকেন্ড ইন কমান্ড। তার রিমান্ড মঞ্জুর হলনা। আবার ৩ জুুন শুনানির দিন ধার্য্য হয়েছে। অথচ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ খুবই জরুরি। কেননা তার চরমপন্থি চক্রে আরও অনেকে রয়েছেন মণিরামপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা অঞ্চলে। সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আটক অভিযানও চলছে। ওই এলাকার অধিকাংশ খুনে চরমপন্থি সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। যে কারণে ওই এলাকায় চরমপন্থি ইস্যুতে তারা তৎপরতাও বাড়িয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখার অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, অভয়নগর ও মণিরামপুরের অধিকাংশ হত্যাকান্ড ও চাঁদাবাজিতে চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা জড়িত। এর আগে ওই দুটি এলাকা থেকে বিভিন্ন অভিযানে দেড় ডজন সন্ত্রাসীও আটক হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছে চরমপন্থি সংশ্লিষ্ট অনেক সন্ত্রাসী। নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের নামে তারা অপরাধ করছে। চাঁদাবাজি, জমি ও মাছের ঘের দখলসহ খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে চক্রটি।

২০২২ সালে মাত্র একলাখ টাকার জন্য খুন করা হয় অভয়নগরের সুন্দলী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত মেম্বার উত্তম সরকারকে। চাঁদার টাকার একাংশ দিলেও বাকি টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ঘটনায় আটক কয়েকজন যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির কাছে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়াসহ নানা তথ্যও দেয়। নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য পরিচয়ে দলীয় ছদ্মনাম ব্যবহার করে তারা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরকদ্রব্য ব্যবহার করে হত্যা, চাঁদাবাজি সংঘটিত করছে।

তথ্য মিলেছে তাদের মধ্যে অনেকেই এর আগে বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করেন। এরা পুণরায় সংঘবদ্ধ হয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে নতুন দল গঠন করে অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুরসহ আশপাশের জেলায় বিভিন্ন মাছের ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও হত্যাকান্ড সংঘটন করছে। তাদের বিরুদ্ধে যশোরাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার জানিয়েছেন, উত্তম সরকার, উদয় শংকর, প্রকাশ মল্লিক, ও মিলন হত্যাকান্ড ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর ছিল। ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চরমপন্থিরাই এই খুন করেছে। ওই চক্রের সদস্যরা শ্রেণিশত্রু খতমের নামে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজির জন্য কয়েকটি হত্যাকান্ড ঘটায়। এর আগে আটক কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, চরমপন্থি সংগঠন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা দীপংকর ভারতে থাকেন। আবার সাইফুল মেম্বারই ভারতে পালিয়েছিলেন। সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যশোর অঞ্চল থেকে চরমপন্থিদের মূলোৎপাটনে কাজ করছে ডিবি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর