রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৩ ১৪২৯   ১৪ রজব ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
ফেব্রুয়ারি ঘিরে গদখালীর ৫০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্য ফুল চাষে রঙিন ঝিকরগাছার সাজেদার জীবন ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ যশোরে ক্ষমা পেলেন আ’লীগ-যুবলীগের বহিষ্কৃত ৬ নেতা যশোরের ৪০০ টন বাঁধাকপি যাচ্ছে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর-তাইওয়ানে দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম
৬৯

অমঙ্গলের ভয়ে গরু জবাই বা দুধ বিক্রি হয় না যশোরের যে গ্রামে

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৩  

যশোরের শান্ত নিরিবিলি গ্রাম ভগবতীতলা। এই গ্রামে দুই হাজার গবাদি পশু আছে। কিন্তু এ গ্রামে ২০০ বছর ধরে পালিত হচ্ছে আজব এক সংস্কৃতি। এই গ্রামে বিক্রি হয় না গরুর দুধ। শুধু তাই নয়, গ্রামের মধ্যে জবাই করা হয় না কোনো গরু। এসব কাজ করলে অমঙ্গল হবে বলে গ্রামবাসীর বিশ্বাস। এই গ্রামের বাজারের চায়ের দোকানগুলোতেও পাওয়া যায় না দুধ-চা। 

যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে ভৈরব নদের পারে গ্রামটির অবস্থান। গ্রামের সচেতন মানুষরা বলছেন, পূর্বপুরুষের রেওয়াজ হিসেবে গ্রামের মানুষ এটা মানছেন। তবে এটি কুসংস্কার।

ভগবতীতলায় এই প্রথা চালুর কারণ হিসেবে একটি গল্পের প্রচলন রয়েছে। গত বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সেখানে গিয়ে কথা হয় গ্রামের সবচেয়ে প্রবীণ বাসিন্দা মাজু বিবির সঙ্গে। তার বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই। তিনি বলেন, ১৮৪৬ সালের দিকে এ গ্রামে গুটি বসন্তের প্রাদুর্ভাবে অনেক মানুষ মারা যায়। এ সময়ে গ্রামে হাজির হন এক ফকির (সাধু)। তিনি গ্রামের এক বাড়িতে গিয়ে বলেন, তার গরুর দুধের প্রয়োজন। আশপাশের অনেক গ্রামে গিয়েছেন, কিন্তু কোথাও দুধ পাননি। তখন তাকে চাহিদামতো বিনা মূল্যে দুধ দেওয়া হয়। সেই দুধ নিয়ে তিনি গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে পায়েস রান্না করে গ্রামবাসীকে খাওয়ান। এরপর তিনি বলেন, যেহেতু এই গ্রামে দুধ পাওয়া গেছে, তাই এ গ্রাম ভাগ্যবতী। এ গ্রামের আর কেউ গুটি বসন্তে মারা যাবে না। এরপর গ্রামের আর কেউ গুটি বসন্তে মারা যায়নি।

যাওয়ার সময় ওই ফকির নির্দেশ দিয়ে যান, এই গ্রামের কেউ যেন গরু জবাই ও দুধ বিক্রি না করে। এটা মেনে না চললে আবার গ্রামে মহামারি হবে।

গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, গ্রামটিতে প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস। দুধ উৎপাদনও হয় প্রচুর। তবে গ্রামের কেউ গরু জবাই বা দুধ বিক্রি করেন না। তবে কোরবানির ঈদে অন্য গ্রাম থেকে গরু জবাই করে আনে গ্রামবাসী। আর দুধ বিক্রি না করে নিজেরা খান, স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন।

ভগবতীতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ শিহাব উদ্দীন বলেন, বছর তিনেক আগে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মিলে একটি গরু কিনে গ্রামের মাদরাসার পাশে জবাই দেন। সে সময় তিনি গ্রামের অনেকের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে গরু জবাইয়ের পর তাদের কিছু হয়নি।

ভগবতীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান বলেন, ‘এটা কুসংস্কার। কুসংস্কার বাদ দিয়ে সবাইকে বিজ্ঞানসম্মত পথে আসা উচিত।’

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর