রোববার   ০৭ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
৫০

অমুসলিমকে জাকাত ও অন্যান্য দান-সদকা দেয়ার বিধান

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২২ মে ২০২০  

প্রশ্ন: বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক গরিব অমুসলিমও কষ্টে আছেন। আমাদের দেশে এই সময়ে মানুষের দান-সদকার পরিমান বেড়ে যায়। মানুষ জাকাত, ফেতরা ও অন্যান্য সাধারণ দান-সদকা করে থাকেন। মুসলমান গরিবরা সেগুলো নিয়ে থাকেন। জানতে চাচ্ছি, অমুসলিম গরিবদেরকে কোনো ধরনের দান-সদকা দেয়া যাবে?

উত্তর: অমুসলিমদেরকে সাধারণ দান সদকার ব্যাপারে কোরআনে নির্দেশ: আল্লাহ তায়ালা আল কোরআনে বলেছেন, ‘যেসব অমুসলিম তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না এবং তোমাদেরকে বাড়িঘর থেকে বের করে দেয় না তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেনি। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন।’ (সূরা: মুমতাহিনা, আয়াত নম্বর: ৮)।

উপরোক্ত আয়াতের আলোকে ফকিহরা বলেন, নফল দান-সদকা অমুসলিমকে দেয়া যাবে। (দরসে তিরমিজি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৪৩৪)।

ফিতরা ও মানত দেয়ার বিধান: গরিব অমুসলিমকে ফিতরা, মানতের দান ও কোরবানির চামড়ার টাকা দিয়ে সাহায্য করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। যদিও উত্তম হচ্ছে মুসলমানকে দেয়া। (আদ র্দুরুল মুখতার, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৫৩, ফতোয়ায়ে দারুল উলুম, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-২২০, কিফায়াতুল মুফতি, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৭৯)।

অমুসলিমকে জাকাত দেয়ার বিধান: জাকাত হচ্ছে ধনীদের সম্পদে, দরিদ্র মুসলমানের নির্ধারিত হক। এ হক আল্লাহ প্রদত্ত। সুতরাং প্রত্যেক সম্পদশালীর কর্তব্য হলো, মুসলমানদের মাঝে যারা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত, তাদের মাঝে তা বন্টন করে দেয়া। কোনো দরিদ্র অমুসলিমকে জাকাত দিলে তা আদায় হবে না। সে পরিমাণ জাকাত পুনরায় আদায় করতে হবে। (আদ র্দুরুল মুখতার, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৫৩, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, খণ্ড-১৪, পৃষ্ঠা-২৩১, ফতোয়ায়ে দারুল উলুম, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-২২০)।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো