সোমবার   ০২ অক্টোবর ২০২৩   আশ্বিন ১৬ ১৪৩০   ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
যশোরে আমনের সবুজ ধানক্ষেতে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা চৌগাছায় পেঁয়াজ বীজ পেলেন ১৭০ কৃষক রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার ফ্রিল্যান্সারদের ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য নয়: এনবিআর ১৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান চুক্তি স্বাক্ষর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই
৯৫

অসময়ের ফলে কেশবপুরের বিল খুকশিয়ার হাসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

কয়েক বছর আগেও কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছিল যশোরের কেশবপুরের বিল খুকশিয়া। বিলে জমি আছে, কিন্তু সেই জমিতে ফসল করা যাচ্ছিল না জলাবদ্ধতার কারণে। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা সেখানে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। ভালোই চলছিল। এবার সঙ্গে যোগ হয়েছে এক নতুন ফসল। বিলে ঢুকে সামনে তাকালে দেখা যায়, মাছের ঘেরের ভেড়ির দুই পাশে সারি ধরে মাচা। সেই মাচায় পানির ওপর ঝুলে আছে রসাল ফল তরমুজ। অসময়ের এই ফসলে কৃষকের মুখে হাসি, পরিবার খুশি।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিল খুকশিয়ায় ঘেরের ভেড়িতে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই তরমুজ বিক্রি করে প্রায় ২ কোটি টাকা আয়ের আশা করা হচ্ছে।

তরমুজ চাষের উদ্যোগটা নিয়েছিলেন বিল খুকশিয়াসংলগ্ন কানাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস (৪৪)। বছর তিনেক আগে তিনিই প্রথম মাছের ঘেরের ভেড়িতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ শুরু করেন। প্রথমবারেই এর ব্যাপক ফলন পেয়ে লাভবান হন। ঘেরের পানিতে মাছ চাষ ও ডাঙায় তরমুজ আবাদ করে তিনি এই উপজেলায় ব্যাপক সাড়া ফেলেন। তাঁর দেখাদেখি এবার ওই বিলে তরমুজ চাষ করেছেন কানাইডাঙ্গা, আড়ুয়া, কাঁকবাধাল, সারুটিয়া ও গৃধরনগর গ্রামের শত শত কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে বেশ। আকারভেদে একেকটি তরমুজের ওজন হয়েছে ৫ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন এই সুস্বাদু তরমুজ।

সরেজমিন বিল খুকশিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিলটির অধিকাংশ ঘেরের ভেড়িতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ঘেরের পানির ওপর তৈরি করা মাচায় এসব তরমুজ ঝুলছে। যত দূর চোখ যায়, দেখা মেলে তরমুজের। কৃষকেরা ঘেরের পাড় থেকে কিংবা নৌকায় বসে এসব তরমুজখেত পরিচর্যা করছেন।

কৃষক আব্দুল কুদ্দুস যশোরের আলোকে বলেন, প্রথমবারেই বেশ লাভবান হওয়ায় এবার সাড়ে ৭ বিঘা ঘেরের ভেড়িতে প্রায় ১ হাজার তরমুজগাছ লাগিয়েছেন। এসব তরমুজগাছ থেকে প্রায় ২০০ মণ তরমুজ পেতে পারেন। খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তরমুজ বিক্রি করে এবার তিনি দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

নৌকায় বসে তরমুজগাছের পরিচর্যার সময় রিয়াদুজ্জামান নামের এক যুবক যশোরের আলোকে বলেন, অন্যদের দেখাদেখি এবারই তিনি ৫ বিঘা ঘেরের ভেড়িতে তরমুজ আবাদ করেছেন। কয়েক দিন আগে প্রথমবার ২৬ মণ তরমুজ ৪২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।

বিলপাড়ের তরমুজ ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন মিন্টু যশোরের আলোকে বলেন, বিল খুকশিয়া ঘাট থেকে প্রতিদিন তিনি ৭০ থেকে ৮০ মণ তরমুজ কিনে ছোট পিকআপে করে ঢাকা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে থাকেন। তাঁর মতো আরও অনেকে কৃষকদের কাছ থেকে তরমুজ কিনে বিভিন্ন স্থানে পাঠান।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার যশোরের আলোকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা তরমুজের ব্যাপক ফলন পেয়ে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আগামী বছর তরমুজ আবাদ আরও বাড়বে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর