মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো
২৯৮৯

কালীঞ্জে বিএনপির দু’গ্রুপের কোন্দল চরমে!

বিনোদন ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দু’গ্রপের কোন্দল আবারও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দুই গ্রুপ গত জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই আলাদা আলাদা কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেছে।

একটি গ্রুপ অপর গ্রুপের নেতাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। আবার অপর গ্রুপ বলছে সংস্কার পন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত এক নেতা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

 ইতিমধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বাদি হয়ে বিএনপির ৩৬ জন নেতাকর্মীর নামে মামলাও দায়ের করছে। যেখানে জেলার অন্য উপজেলায় বিএনপির তৃণমুল নেতাকর্মীদের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ দল গঠনে কাজ করছে সেখানে পদের জন্য দুইটি গ্রুপ আবার কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হাসানসহ বিএনপির উপজেলা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং অপর গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু ও সাবকে ছাত্রনেতা জেলা বিএনপির সদস্য হামিদুল ইসলাম হামিদসহ কিছু নেতাকর্মী।

কালীগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান দুই গ্রুপ আলাদা আলাদা পালনের উদ্যোগ নেয়। সাবেক সংসাদ এম শহীদুজামান বেল্টুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ অনুষ্ঠান করতে পারলেও সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের অনুষ্ঠান পুলিশের অনুমতি পাবার পরও পরে তা প্রশাসন করতে দেয়নি বলে অভিযোগ। দিনে দুপুরে থানার সামনে একটি গ্রুপ অপর গ্রুপের নেতাদের উপর হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। এ সময় সংস্কার পন্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম শহীদুজ্জামান বেল্টু মনোনয়ন পাবার জন্য অনেক তদবির করেন।

এ নির্বাচনে বিএনপির উপজেলা সিনিয়র নেতৃবন্দ সাইফুল ইসলাম ফিরোজের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন। কিন্তু সাবেক সংসদ সদস্য এম শহীদুজামান বেল্টু ও তার অনুসারীরা মাঠে ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠে। এর পর থেকে মুলত আলাদা দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। এম শহীদুজ্জামান বেল্টুকে দলীয় মনোনয়ণ না দেওয়া এই গ্রুপিং এর সুত্রপাত। এছাড়াও সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য এম শহীদুজ্জামান বেল্টু ও সাবেক ছাত্রনেতা হামিদুল ইসলামকে না রাখায় সম্প্রতি দলীয় কোন্দল আরো প্রকাশ্যে রুপ নেয়। হামিদুল ইসলাম হামিদের অভিযোগ দলের কয়েকজন নেতা ইচ্ছা করেই তার নাম বাদ দিয়েছেন।

গত আগষ্ট মাসের শেষের দিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: মাহবুবার রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ডা: নুরুল ইসলাম, তবিবুর রহমন মিনি, বিএনপি নেতা ও তরুন ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ মোল্লা, আলউদ্দিন কে কমিটির সদস্য করা হয়। কিন্তু সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম শহীদুজ্জামান বেল্টু ও হামিদুল ইসলাম হামিদকে রাখা হয়নি।

কালীগঞ্জে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে যে সকল নেতা রয়েছে তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হাসান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো: মাহাবুবার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা কমিটির সদস্য তবিবুর রহমান মিনি, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম তোতা, ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা মো: আলী জিন্নাহসহ অনেক নেতা।

অপর দিকে এম শহীদুজ্জামান বেল্টুর নেতৃত্বে যে সকল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রোগ্রাম করতে দেখা গেছে তার মধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য হামিদুল ইসলাম হামিদ, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম লস্কর, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মিলন, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাজান আলী খোকন, জেলা যুবদলের নেতা শাহিন লস্কর, আনোয়ার হোসেন,সাইফুজ্জামান স্বপন।

সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা বিএনপির সদস্য হামিদুল ইসলাম জানান, বিএনপির দু:সময়ে তিনি কালীগঞ্জে বিএনপির টিকিয়ে রেখেছেন। বিএনপিকে কালীগঞ্জে বাচিয়ে রাখতে গিয়ে অর্ধশতাধিক মামলা ঘাড়ে নিতে হয়েছে। সেই সময় বেল্টু সাবেক কিংবা ফিরোজ সাহেব কালীগঞ্জে এসে নেতাকর্মীদের খোজ খবর নেন নি। দলের জন্য যা করেছি তা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানে। তবে বর্তমান সময়ে দল তাকে মুল্যায়ন করেনি। দলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করতে সংস্কার পন্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য এম শহীদুজ্জামান বেল্টুর সাথে আবার আতাত করলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি দলীরের সকল নেতাকর্মীদের এক দেখতে চাই। সকল বিভেদ ভুলে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ঐক্য বদ্ধ আন্দোলন করার জন্য সাবেক সংসদ শহীদুজ্জামান বেল্টুর সাথে মিটিং করেছি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির এক নং সদস্য সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, দলের মধ্যে গ্রুপিং আছে এটা ঠিক না। তবে তিনি বলে দলের কয়েকজন নেতা দলকে ভাঙতে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের কর্মকান্ড চালাচ্ছে। বর্তমান কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। হাতে গোন দুই একজন এই কাজ করছে। তবে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ খুব শিগ্রই এই সমস্যার সমাধান করবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর