শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
১০৩

করোনাভাইরাস: এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠা

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২০  

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২০ সালের পূর্ব ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আদৌ পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে ১১ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থী।

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং বন্ধ ঘোষণা করায় এ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, আগামী ১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাছাকাছি সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখতে এক বেঞ্চ পরপর সিট প্ল্যান করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর এ কথার মানে দাঁড়িয়েছে ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা আদৌ হবে কি না তা নিশ্চিত নয়। তাই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত। শেষ ১৫ দিন একজন পরীক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ এ সময় শর্ট সাজেশন্স তৈরি, বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারিং করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা পেছানোর ঘোষণা এলে পুরো প্রস্তুতি এলোমেলো হয়ে যাবে। 

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পাশাপাশি আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি ওঠে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের হল গুলোও বন্ধ থাকবে। সামনে গ্রীষ্মকালীন ও রোজার ছুটি রয়েছে। প্রয়োজনে সে ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

সরকারের এ ঘোষণার পর পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কি আদৌ এইচএসসি পরীক্ষা হবে? না হলে পরীক্ষার্থীদের কী করণীয় তা পরিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

রাজধানীর ইমপেরিয়াল কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক ঝুনু জাহাঙ্গীর বলেন, সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতদিন অনেক ভয় নিয়ে মেয়েকে কলেজ ও কোচিংয়ে পাঠিয়েছি। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হোক। রোজার ছুটিতেও পরীক্ষা নিতে পারে। তা না হলে আমাদের আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আনোয়ার সাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার ঘোষিত বন্ধের পরের দিনই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিতে পারবেন না। কলেজ ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় লেখাপড়াও বিঘ্নিত হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হোক। 

কলেজ বন্ধ থাকায় প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবে কী করে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ঘরে থাকতে বলেছে। আবার কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে বলেছে। কলেজে গেলে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, বিদেশের মতো আমাদের সব শিক্ষার্থীর প্রযুক্তি সুবিধা নেই যে তাদের অনলাইনে পাঠদান করা যাবে। বোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করেছে। পরীক্ষার্থীদের কলেজে এসে প্রবেশপত্র নিতে বলা হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কলেজে বিশেষ প্রস্তুতি আগেই শেষ হয়েছে। এখন তারা বাসায় বসে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর