শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ১০ ১৪২৭   ০৮ সফর ১৪৪২

  যশোরের আলো
১২৮

করোনায় উজ্জ্বল ভূমিকায় ছাত্রলীগ

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

শ্রমিক সংকটে কৃষকের ধানা কাটা থেকে শুরু। করোনা মহামারিতে বিনামূল্যে স্যানিটাইজার, মাস্ক ও খাবার বিতরণ। সর্বশেষ বন্যায় ডুবে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

গত মার্চে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে লাখ লাখ নেতাকর্মীদের নিয়ে মানবিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সংগঠনটি। জেলা পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে মানবিক কাজে মানুষের পাশে দাঁড়ায় ছাত্রলীগ।

স্বাভাবিক সময়ে কমিটি কিংবা আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে করোনার সময় সংঘর্ষ কিংবা দখলবাজিতে দেখা যায়নি ছাত্রলীগকে। মহামারিতে মানবিক কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মানবিক কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখলেও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ গতিশীল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব বন্টন ও বিতর্কিতদের বাদ দিলেও বঞ্চিতদের পদায়ন করা হয়নি। বিশেষ সময়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘসময় পার হলেও সবাইকে নিয়ে বর্ধিত সভা হয়নি। তৃণমূলের বিভিন্ন জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ কিন্তু সেগুলো পূর্ণাঙ্গ কিংবা নতুন করে গড়তে পারেনি। যদিও অনিয়ম কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ পেলে জড়িতদের বহিষ্কার কিংবা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের এই মানবিক ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'একটা বিষয় না বলে পারব না। ছাত্রলীগ, আমাদের ছাত্রলীগের ছেলেরা- ধান কাটার লোক নেই- নির্দেশ দেওয়ার পর তারা ধান কাটতে নেমে গেল।' 

গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ছাত্রলীগ স্যানিটাইজার তৈরি করেছে। ফর্মূলা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে তৈরি শুরু করে। বিনা পয়সায় বিলি করে। বিভিন্ন জায়গায় তারা মানুষের ঘরে ঘরে খাবার বিতরণ করেছে। আমাদের সংগঠনের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে খাবার নেই সেখানে খাবার দিতে হবে।'

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে সম্মেলন হলেও ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অনিয়ম ও অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাঁদেরকে অপসারণ করে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর জয়-লেখককে দেওয়া হয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব।

ছাত্রলীগ সূত্র বলছে, দলীয় প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে মানবিক সংকটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর গত এপ্রিলে কৃষকের ধান কাটতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। তখন এগিয়ে আসেন  নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জয়-লেখক নিজেও ধান কাটতে মাঠে নেমে যান।

করোনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্যানিটাইজার তৈরি করে ছাত্রলীগ। ফর্মলা অনুযায়ী দলীয় নেতাকর্মীরা স্যানিটাইজার বানিয়ে রাজধানী ও জেলা পর্যায়ে তা বিতরণ করেছেন। মানুষকে করোনার বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি বিনামূল্যে মাস্কও বিতরণ করে ছাত্রলীগ।

এর পর গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দেয় বন্যা। বন্যায় ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণে কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগ। জামালপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, মুন্সিগঞ্জ, পাবনা, নেত্রকোনা, সাতক্ষীরা, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ ও শেরপুরে বন্যার্তদের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছে ছাত্রলীগ।

শুধু তাই-ই নয়, করোনার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা গ্রামে ফিরে যায়। কিন্তু দীর্ঘসময় বন্ধের কারণে মেস কিংবা বাসা ভাড়া নিয়ে সংকট দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের ভাড়া সংক্রান্ত সংকট নিরসণে একটি কমিটিও গঠন করে ছাত্রলীগ।

ভাড়া সংক্রান্ত সংকটে নিরসণে দায়িত্ব পাওয়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক শেখ স্বাধীন মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, 'রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী মেস বা বাসা ভাড়া নিয়ে সংকটে পড়লে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছি আমরা। মেস কিংবা বাসার মালিকের সঙ্গে কথা বলে ভাড়া কমানো হয়েছে। কোথাও অর্ধেক কিংবা আংশিক কমানো হয়। যাতে শিক্ষার্থীদের সংকট দূর হয়েছে।'

শেরপুরে ত্রাণ বিতরণ করা ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, 'করোনা মহামারিতে সংকট দেখা দিলে এগিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কৃষকের ধান কাটা, স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ ও সর্বশেষ বন্যার্তদের বাড়িতে বাড়িয়ে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়েছে। বন্যার প্রকোপ বাড়লে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।'

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, 'ছাত্র সংগঠন হিসেবে করোনার সময় সারা দেশে নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কৃষকের ধান কাটা, স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ এবং বন্যাদুর্গতদের কাছে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটি পালন করেছেন জেলার নেতাকর্মীরা। আমরা বিশেষ সময়ে দায়িত্ব পাওয়ায় অনেক কিছু করতে পারিনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই অবশিষ্ট কাজ করব।'

সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, 'ছাত্রলীগ একটি আদর্শ নিয়ে চলে। দায়িত্ব পাওয়ার পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। করোনার সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানুষকে যতটা সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মানবিক কাজে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছি।'

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর