শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৮ ১৪২৭   ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
test
১১৭

করোনায় ফিরে পাওয়া প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি (বেলায়েত হুসাইন)

প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২০  

করোনা মহামারির প্রাদূর্ভাব এড়াতে ফ্রেব্রুয়ারিতেই ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে এসে আশ্রয় নিতে হয়। প্রায় চার মাস বাড়িতে একরকম বন্দী জীবন কাটাচ্ছি, কবে নাগাদ কর্মস্থলে ফিরবো তার কোন নিশ্চয়তা নেই- এই পরিস্থিতিতে প্রায় অর্ধযুগের বেশি সময় পর গ্রামকে আবার কাছ থেকে অনুভব করার চেষ্টা করছি। 

যখন বাড়িতে আসি তখন পেঁয়াজ-রসুনের ভর মৌসুম। ঐতিহ্যগতভাবেই আমরা কৃষক পরিবার। ক্ষেতে আমাদেরও রসুন-পেঁয়াজ ছিলো। বিগত কত বছর যে জমি থেকে পেঁয়াজ আর রসুন সংগ্রহ সরাসরি প্রত্যক্ষ করিনা ভুলেই গেছি। 

করোনার প্রাদূর্ভাব আবার সেই সুযোগ করে দিয়েছে, দীর্ঘদিন পর এবছর নিজেই ক্ষেত থেকে রসুন সংগ্রহ করলাম। এরপরের দীর্ঘ অবসরেও হাত গুটিয়ে বসে থাকিনি, পেঁয়াজ-রসুনের পরে অন্যান্য ক্ষেতখামারেও কাজ করছি। মরিচ বুনেছি, ঢেড়শ, ডাটা, পুইশাকের চাষাবাদ করছি।

আমি মনে করি, নিজের মূল পেশার পাশাপাশি বৈধ উপার্জনের জন্য বাড়তি কিছু করা এবং করার অভিজ্ঞতা থাকা উচিত- সেই চিন্তা থেকেই একজন আলেম হওয়া সত্ত্বেও অবসরে টুকটাক ক্ষেতে কাজ করাকে লজ্জার কিছু ভাবছিনা; বরং এটা ভেবে গর্ববোধ করছি যে, আমার উপার্জন শুধামাত্র একটি কাজের ওপর নির্ভরশীল না, প্রয়োজনে রুটিরুজির জন্য সম্মানজনক ভিন্ন কোন পন্থাও আমি বেছে নিতে পারি।

আসলে কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়া আমার জন্য দারুণ অনুভূতি। শৈশব কৈশরের বড় একটি সময় গ্রামে বড় হয়েছি, কৃষিকাজ দেখেছি এবং এটাকেই আমাদের স্বাভাবিক জীবন মনে করেছি। দীর্ঘদিন গ্রামকে এভাবে কাছ থেকে না দেখতে পেরে মনে হয়েছে যেন, আমার জীবনকেই হারিয়ে ফেলেছি। ক্রমেই ক্ষয়ে আসা জীবনের সবচেয়ে মধুর সময় যৌবনে করোনা মহামারি আবার সেই জীবনে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছে। অনেকদিন পর গ্রামকে দেখছি তার আপন চেহারায়।

সত্যি বলতে গ্রামের বাতাসকে যেমন আপন অনুভূত হয় বিগত অর্ধ যুগ শহরে কাটিয়ে সেখানকার আলো-বাতাসকে সেভাবে আপন করে নিতে পারিনি, নেয়ার চেষ্টাও করিনি। জীবনের বেশিরভাগ সময় শহরে অতিবাহিত করলেও গ্রামে কাটানো সামান্য সময়কেই বেশি উপভোগ করতে চেয়েছি। কারণ, গ্রাম আমার মা, জীবনের মধুর সময়টুকু যে এখানেই ব্যয় করেছি।

লেখক: শিক্ষক, মারকাযুদ দিরাসাহ আল ইসলামিয়া-ঢাকা

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো