সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২৩ ১৪২৬   ১২ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
১৮

করোনা: কলকাতায় ৩০ মার্চ পর্যন্ত সব শুটিং বন্ধ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২০  

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় বন্ধ হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জের সমস্ত শুটিং। মঙ্গলবার কলকাতার নন্দনে পশ্চিমবঙ্গের পূর্তমন্ত্রী এবং ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি অরূপ বিশ্বাস সমগ্র টলি পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আনন্দবাজার জানায়, মুম্বাইয়ে ধারাবাহিক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজের শুটিং বন্ধ হওয়ার পর থেকেই টলিপাড়ার শুটিং বন্ধ নিয়ে ‘নানা মুনির নানা মত’ ঘুরে বেড়াচ্ছিল ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় বন্ধ হয়েছে প্রেক্ষাগৃহ। এরই মধ্যে  মঙ্গলবার নন্দনে অরূপ বিশ্বাস  বলেন, ‘আগামীকাল থেকে ৩০ মার্চ অবধি সমস্ত সিনেমা এবং ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ৩০ তারিখের পর সিনেমা জগতের সবাইকে নিয়ে ‘রিভিউ মিটিং’-এ বসবেন। সেখানেই স্থির হবে কবে থেকে আবার কাজ শুরু হবে।’

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী বলেন, ‘মানুষের জীবনের দাম সবচেয়ে বড়। তাই আর্থিক ক্ষতি হলেও সবার স্বার্থে সমবেত ভাবে এই সিদ্ধান্তে এসেছি আমরা।’

ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, “সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামীকাল থেকে ৩0 মার্চ পর্যন্ত সমস্ত শুটিং বন্ধ থাকবে। সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির চিন্তাভাবনা বাদ দিয়েই মানুষের স্বাস্থ্যের খাতিরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজেরাই যদি না বাঁচি তাহলে কাজকর্ম করার মানেই হয় না।” এ ছাড়াও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা জুন মাল্য, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়-সহ অনেকে।

এগারো দিন শুটিং বন্ধ থাকা মানে বিরাট অঙ্কের লোকসান। মেকআপ আর্টিস্ট থেকে জুনিয়র টেকনিশিয়ান, যারা দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা কী করবেন? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘শুধু যে টেকনিশিয়ানদের ক্ষতি হবে এমনটাও নয়। বিশ্বের অর্থনীতিই বিপর্যস্ত। এই ক্ষতি সবার।’ অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় যোগ করেন, ‘আমরা সবাই দৈনিক পারিশ্রমিক পাই। শুটিং বন্ধ থাকলে কেউ-ই পাব না সেটা। আগে তো বাঁচার কথা ভাবব। তার পর টাকা।’

প্রথমে ঠিক হয়েছিল, সোমবার বিকেলে টালিগঞ্জের প্রযোজকেরা বৈঠকে বসে করোনা-আতঙ্কে শুটিং বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। ঠিক কোন তারিখ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সিনেমা ও ধারাবাহিকের শুটিং বন্ধ রাখা হবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ারও কথা ছিল এখানে। কিন্তু তা স্থগিত হয়ে যায়।

প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, যেহেতু শুধুমাত্র প্রযোজক, পরিচালক বা অভিনেতা নিয়ে টলি দুনিয়া নয়, তাই টেকনিশিয়ান, ফ্লোর ম্যানেজার সবার মতামতও ফেডারেশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শুটিং বন্ধের বিষয়ে ফেডারেশনের সমস্ত সংগঠনকেই তাদের মতামত জানতে চেয়ে ইমেইল পাঠানো হয়েছিল। সেই ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় ফেডারেশনের সব সংগঠন।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর