ব্রেকিং:
দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড এভাবে রিসোর্টে যাওয়া সমীচীন হয়নি: লাইভে মামুনুল হকের স্বীকারোক্তি

রোববার   ১১ এপ্রিল ২০২১   চৈত্র ২৭ ১৪২৭   ২৮ শা'বান ১৪৪২

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
যশোরে আরও ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত যশোরে ছেলের হাতে পিতা খুন মাগুরায় মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ঝিনাইদহে তেঁতুল গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু কুমারখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসাছাত্র নিহত ইবির ৫৮৬ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস গরম বাতাসে পুড়ে গেছে ঝিনাইদহের ১১৭ হেক্টর জমির ধান শখের মাছের খামারে কোটি টাকার হাতছানি বালিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমান মাছ বিক্রি’র উদ্বোধন রাজবাড়ীর তিন উপজেলায় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা যশোরের চাঁচড়া হ্যাচারি পল্লীতে পোনা উৎপাদনে রুপালি বিপ্লব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় একাত্তরের ১০ এপ্রিল শৈলকুপায় করোনায় একজনের মৃত্যু দৌলতদিয়ায় ৩০০ গ্রাম হোরোইনসহ, আটক ১
৩৭

কেশবপুরে নৌকায় ভোট দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২১  

যশোরের কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী স্বামীকে ভোট না দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন সোহেল হাসান আইদ নামে এক বিএনপি নেতা।

এ বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) কেশবপুর পৌরসভা মেয়রের দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন জামিলা পারভীন নামে ওই নারী। একই সাথে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনেরও অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে ১নং ভোগতি নরেন্দ্রপুর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন সোহেল হাসান আইদ। তিনি পানির বোতল প্রতীকে নির্বাচন করেন। মাত্র ৩৮ ভোট পেয়ে জামানতও হারিয়েছেন। ওই নির্বাচনে তার জন্য কাজ না করার জন্য এবং আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের পক্ষে কাজ করা ও নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে স্ত্রী জামিলা পারভীনকে গত ২ মার্চ তিনি তালাক দিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৃহবধূ জামিলা পারভীন বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা প্রেম করে বিয়ে করি। আমাদের ছেলে সোয়েমারজু অংশু এবার এইচএসসি পাশ করেছে ও একটি মেয়ে নাফিসা লুবনা অহনা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিরামহীনভাবে স্বামীর নির্বাচনে কাজ করতে পারিনি। তারপরও গণসংযোগে যেয়ে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য কাজ করছি, অভিযোগ তুলে আমার স্বামী তার দুই ভাইপো আলম ও পলাশকে সাথে নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ছেলে মেয়ের সামনে আমাকে মারধর করে এবং সন্তানদেরসহ আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে নিরাপত্তা চেয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরী করি (যার নং- ১০৪১)। অথচ মনিরামপুর পৌর নিকাহ রেজিষ্টারের মাধ্যমে আইদ আমাকে তালাক দিয়ে ডাকযোগে পাঠিয়েছে।’

জামিলা জানান, তার স্বামী বিএনপির কর্মী হিসেবে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও কারাবাস করায় মানসিক দিক দিয়ে সব সময় উগ্র মেজাজের হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তার ও তার সন্তানদের ওপর মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কেশবপুর থানার অস্ত্র, বিস্ফোরক ও নাশকতার চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পৌরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্ত্রী জামিলা পারভীন তাকে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’ করায় তালাক দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইদ। শুধু তাই নয়, সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করেছেন তিনি। 

এর আগেও স্ত্রীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদ হয়েছিল যুবদলের এ নেতার।

যশোর আমলি আদালতে করা ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে জামিলাকে বিয়ে করার পর আইদ চার বছর মালায়েশিয়ায় ছিলেন। সেই সময় জানতে পারেন, স্ত্রী এক যুবকের (রিপন) সঙ্গে পরকীয়া জড়িয়ে পড়েছে। দেশে ফিরে আসার পর জামিলা সব অস্বীকার করেন।

এরপর তাদের পুত্র অংশু (২২) জন্ম নেওয়ার পর জামিলা পারভীন রিপন নামের সেই যুবকের সঙ্গে চলে যান। ওই ঘটনার উল্লেখ করে আইদ ২০১০ সালের ৯ অক্টোবর কেশবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, যার নম্বর- ৩৯৩। 

এরপর ওই বছরের ২৭ অক্টোবর আইদকে তালাক দেন জামিলা।

২০১১ সালে রিপনকে ছেড়ে আবার সাবেক স্বামী আইদকে বিয়ে করার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ধর্ণা দেন জামিলা। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে জামিলাকে ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি ফের বিয়ে করেন তিনি। আইদকে দ্বিতীয় বার বিয়ের পর তাদের সংসারে কন্যা অহনা (৯)জন্ম নেয়। 

এ বিষয়ে সোহেল হাসান আইদ জানান, ‘জামিলা নৌকায় ভোট দিয়েছে কি দেয়নি সেটা বিষয় না। সে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আতিয়ার রহমানের উট পাখি মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা করেছে। আমার সামনে অন্যের নির্বাচন করা, স্বামী হিসেবে মর্যাদাহানী ও অপমানকর মনে হওয়ায় তাকে তালাক দিয়েছি। এ ছাড়াও তার চরিত্র মোটেও ভাল না, আমার সরলতার সুযোগে সে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে গভীত প্রনয়েও জড়িয়েছে। 

এ বিষয়ে কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি পারিবারিক ও খুবই অমানবিক। স্বামীর কাছে ওই গৃহবধূ দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার শুনেছি। এখন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’পক্ষকে নোটিশ করে ডেকে শুনানী গ্রহণ করে পারিবারিক আইন অনুযায়ায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর