মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১১ ১৪২৯   ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন নিউজ উইকে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের গল্প অবহেলিত মেটে আলু স্বপ্ন দেখাচ্ছে চৌগাছাবাসীকে যশোর-ঝিনাইদহ-মাগুরায় শাক সবজির বিরাট ফলন অভিশপ্ত ইনডেমনিটি ও ইতিহাসের কালো আইন যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে টিকে রইল ৫২ প্রার্থী ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কালনা মধুমতি সেতু
৪১

গোয়াল ঘরে ফেলে রাখা মাকে উদ্ধার করলেন চৌগাছার ইউএনও

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২  

যশোরের চৌগাছায় এবার ছেলে-বৌ কর্তৃক অসুস্থ অর্ধনগ্ন অবস্থায় গোয়াল ঘরে ফেলে রাখা মাকে (৬৫) উদ্ধার করে ছেলের ফ্লাট বাড়িতে তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাশাপোল ইউনয়িনের বুড়িন্দিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি সূত্রে সংবাদ পেয়ে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশসহ উপস্থিত হন ওই বাড়িতে।

সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃদ্ধা অসুস্থ মাকে (৬৫) গোয়াল ঘরের ময়লার মধ্যে মেঝেতে একটি কাথার ওপর প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। গোয়াল ঘরটি ছাদের হলেও তীব্র গরমেও সেখানে নেই কোনো বৈদ্যুতিক বা হাতপাখার ব্যবস্থা। অথচ পাশেই সম্পূর্ণ পাকা একটি ছাদের রান্না ঘরে বৈদ্যুতিক পাখার নিচে বসে বৃদ্ধার পুত্রবধূ এবং তার পুত্রবধূ (বৃদ্ধার ছেলের পুত্রবধূ) রান্না করছেন। পাশেই চার রুমের সম্পূর্ণ আলীশান একটি ফ্লাটবাড়ি। যার প্রতিটি রুমের মেঝে, এমনকি ছাড়ে ওঠার সিড়ি পর্যন্ত টাইলস করা। কক্ষগুলো টিভি, ফ্রিজসহ আসবাবপত্র দিয়ে পরিপাটি করে সাজানো।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই বৃদ্ধা মায়ের পুত্রবধূর কাছে বৃদ্ধাকে কেন এই ময়লার মধ্যে গোয়াল ঘরে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, উনি কাপড়-চোপড়ে মূত্রত্যাগ করে ফেলছেন বলে লোকজন বলেছে গোয়াল ঘরে রাখতে, আবার বলেন, তিনি নিজেই এখানে থাকতে চেয়েছেন।

একপর্যায়ে গ্রামের নারী-পুরুষরা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা বলেন, বৃদ্ধার ঝগড়াটে পুত্রবধূর ভয়ে তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তারা আরো বলেন, বৃদ্ধার একমাত্র ছেলের দুই ছেলে। যাদের বড়টিকে বিয়ে দিয়েছেন। আর ছোটটি প্রবাসী। তিনদিন আগে মেয়ের জামাই বৃদ্ধাকে ছেলের বাড়িতে রেখে যাওয়ার পর থেকেই তাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছেন ওই ছেলে ও পূত্রবধূ।

এসময় বৃদ্ধা ইউএনওকে জানান, প্রায় তিন-চার বছর ধরে তিনি তার চার মেয়ের বাড়িতে থাকেন। কয়েকদিন আগেও ছিলেন বরিশালে ছোট মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে কয়েকদিন আগে আসেন চৌগাছার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামে আরেক মেয়ের বাড়িতে। সেখানে তিনি বাঁশের উপর পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হন। মেয়ে-জামাই খুবই গরীব পরিবারের হওয়ায় তাকে হাসপাতালেও নেননি বা চিকিৎসাও করেননি। সেখান থেকে মেয়ের জামাই গত তিন দিন আগে তাকে ছেলের বাড়িতে রেখে যান। সেদিন থেকেই ছেলে ও তার বৌ বৃদ্ধাকে গোয়াল ঘরে ফেলে রেখেছেন।

তিনি জানান, যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন। তার দুই চোখ জ্বলে যাচ্ছে। রাতে বা দিনে কোনো সময় তাকে একটি ফ্যানও দেয়া হয়নি। মেয়ের বাড়িতে তিনি ভালোই ছিলেন। তিনি বারবার বলতে থাকেন তোমাদের কে খবর দিয়েছে? আমার মেয়ে?।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা স্থানীয় কয়েকজন নারীকে সাথে নিয়ে ওই বৃদ্ধা মাকে ছেলের ফ্লাটের একটি কক্ষে তুলে দেন। এরপর ছেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় পুত্রবধূর কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়। বৃদ্ধা আমৃত্যু ছেলের ফ্লাটবাড়ির কক্ষে থাকবেন। কাপড়-চোপড় নষ্ঠ করে ফেললে ছেলে-পুত্রবধূরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দেবেন এবং সোমবারই বৃদ্ধাকে হাসপতালে নিয়ে চিকিৎসা করবেন। এসময় ওই পুত্রবধূ বলেন, আমাদের তাকে ডাক্তার দেখানোর মতো টাকা নেই। তখন তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। একমাত্র ছেলে। তিনিও নিজের মাকে গোয়াল ঘরে গরুর মলমূত্রের মধ্যে ফেলে রেখেছেন।

তিনি বলেন, ওই মাকে ছেলের ঘরে তুলে দেয়া হয়েছে এবং চিকিৎসক দেখানোর জন্য বলা হয়েছে। এর অন্যথা করার অভিযোগ পাওয়া গেলে ওই ছেলে ও পূত্রবধূর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর