বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগ কখনো সন্ত্রাস প্রশ্রয় দেয় না এইডস রোগীদের জন্য যশোরে হচ্ছে এআরটি সেন্টার যশোরে খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সোহেল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অক্ষত ছিল যে পতাকা খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন
১২২

ঘাস চাষে ভাগ্যবদল

প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২২  

ঘাস চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের তেজরোল গ্রামের রতন মোল্লার (৫২)। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। অধিক ফলনশীল নেপিয়ার ঘাস চাষ করেন তিনি। মাসে ৫০ হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করেন। এ দিয়ে সংসার চলছে তার। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা আনতে ঋণ করে গরুর একটি ফার্ম করেন রতন। গাভী ও বাছুরসহ ১৭টি গরু ছিল তার। কিন্তু খামারটা চালাতে পারেননি। খাজুরা বাজারে চা ও মুদি দোকান দেন। কোনও রকমে সেটি চলে। সংসার চালাতে ও ঋণের কিস্তি শোধ দিতে বাড়ির পাশে কিছু জমি বন্ধক রাখেন। এরপর সেখানে সবজি চাষ করেন। কিন্তু আবাদ ভালো হচ্ছিল না। এরপর মন খারাপ হতে থাকে, মাথার ওপর দেনা। সবশেষ ওই জমিতে বুনে দেন নেপিয়ার ঘাস। কিছু দিনের মধ্যে ঘাসগুলো বেড়ে ওঠে। সেগুলো কেটে বাজারে থাকা মুদি দোকানে তুললে চাষিরা কিনে নেন। তারপর থেকে চলছে ঘাস চাষ আর বিক্রি। সে টাকা দিয়েই চলছে সংসার, শোধ করা হচ্ছে কিস্তির টাকা।

তেজরোল গ্রামের মাঠে শিশিরভেজা ঘাস কেটে মুঠি বাঁধছিলেন রতন আর স্ত্রী চায়না খাতুন। সেখানে কথা হয় এই দম্পতির সঙ্গে। রতন মোল্লা একটু একটু করে জানান সংগ্রামী জীবনের গল্প।

তিনি বলেন, ‘তেজরোল পূর্বপাড়ার মাঠে এক বিঘা জমি এক বছরের জন্য লিজ নিয়েছি ১৪ হাজার টাকায়। আরেক বিঘা দুই লাখ এবং আরও দেড় বিঘা দেড় লাখ টাকায় বন্ধক নিয়েছি। মোট সাড়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছি নেপিয়ার ঘাস। এই অঞ্চলের কৃষকরা গরু-ছাগলের জন্য প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমার দোকান থেকে মুঠি করা ঘাস কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিন সাড়ে ৩৫০-৪০০ মুঠি বিক্রি করি। প্রতি মুঠির দাম পাঁচ টাকা। মাসে ঘাস বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকার বেশি পাই।

রতন মোল্লার স্ত্রী চায়না খাতুন মূলত ঘাস চাষ, কাটা ও মুঠি করার কাজ করেন। মাঝে মধ্যে বিক্রিও করেন।

রতন মোল্লা বলেন, ‘মূলত ঘাস চাষের বিষয়টি দেখেন আমার স্ত্রী। সকালে ঘাস কাটা আর মুঠি করার কাজ তিনি করেন। মুঠি বাঁধা হলে শেষে আমি ইজিবাইকে সেগুলো বাজারে নিয়ে যাই। ছোট ছেলের কলেজ বন্ধ থাকলে দোকানে বসে। ওই সময় আমি ইজিবাইক চালাই। অনেক পরিশ্রম করতে হয় আমাদের। এভাবেই চলছে জীবন সংগ্রাম।’

তিনি বলেন, ‘গত মাসে বড় ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠাইছি। সেখানে কাজে যোগও দিয়েছে। কিন্তু টাকা পাঠানোর মতো উপার্জনে এখনও যেতে পারেনি।’

চায়না খাতুন জানান, তিনটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া আছে পাঁচ লাখ টাকা। একটি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া আছে। প্রতি মাসে এনজিওর ঋণের কিস্তি দিই ৮০ হাজার, দোকান ভাড়া আড়াই হাজার টাকা আর বছরে ব্যাংকের সুদ এক লাখ সাত হাজার টাকা। ঘাস বিক্রি ও নিজেদের আয় থেকেই সুদ পরিশোধ করা হয়।

শুরুটা কীভাবে জানতে চাইলে রতন মোল্লা বলেন, ‘মুদি দোকানের পাশে একজনের ক্ষেতে নেপিয়ার ঘাস প্রথম দেখি। ওই ব্যক্তি নিয়মিত ঘাস বিক্রি করতেন। বছর খানেক আগে ওই জমির মালিকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকার ঘাসের ডাঁটা কিনি। প্রথমে ১৬ শতক জমিতে সেগুলো লাগাই। জমি তৈরি, সার সেচ বাবদ খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ঘাসে লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে জমির পরিমাণ বাড়াই। এখন সাড়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করছি।’

তিনি বলেন, ‘নেপিয়ার ঘাস খুব দ্রুত বাড়ে। প্রতি মাসে আমরা ঘাস কাটি। এক জমির ঘাস কাটতে কাটতে আরেক জমির ঘাস কাটার উপযোগী হয়। কাটা ঘাসের জমিতে সেচ ও মাসে দুবার ড্যাপ, ইউরিয়া আর সালফার সার প্রয়োগ করতে হয়।’

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আবু তালহা বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা নেপিয়ার, পারা, অস্ট্রেলিয়ান জাম্বু ইত্যাদি ঘাসের চাষ করেন। মূলত নেপিয়ার ঘাস বেশি চাষ হয়। এই ঘাস গবাদিপশুর খুব প্রিয়। চাষ পদ্ধতি সহজ। এতে পোকার আক্রমণ হয় না। জেলায় প্রায় ৫২০ হেক্টর জমিতে ঘাসের চাষ হয়। ঘাস চাষে এক হাজার ৪০০ কৃষক জড়িত। এতে অনেকে সফলতা পেয়েছেন।’

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর