রোববার   ০৭ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
৬৯

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২০  

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে যশোরে কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। রাস্তার দুপাশের অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। 

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা সাতটা থেকে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টা পর্যন্ত জেলা শহর ও উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের লাইন ঠিক হতে বিকেল নাগাদ সময় লেগে যাবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের পাশের শতবর্ষী পাঁচটি গাছ রাস্তার ওপরে পড়ে যোগযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সড়কের নাভারণ এলাকায় তিনটি ও কৃত্তিপুর গ্রামের দুইটি বড় গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। দমকল বাহিনীকে খবর পাঠালেও বেলা ১১টা পর্যন্ত গাছগুলো সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যশোর-নড়াইল মহাসড়কের সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর থেকে দায়তলা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের মধ্যেই অন্তত ২৫টি গাছ উপড়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যশোর জেলায় এক হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পানের বরজ, চার হাজার হেক্টরে আম, ৭০০ হেক্টরে লিচু ও প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এসব ফসলের প্রায় সবই ঝড়-বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ গাছের আম-লিচু গাছের ফল ঝড়ে গেছে। সবজির খেত প্লাবিত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কৃষির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই নিরূপণ করা যাচ্ছে না। তবে সব ফসলই ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামাঞ্চলের কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চৌগাছা উপজেলায় ঘরের ওপরে গাছ পড়ে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। সদর সদর উপজেলায় অপর একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য ও কৃষির ক্ষতি হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। তাদের টিন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর