শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
১৬ লাখ পথশিশুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হাইকোর্টের রুল ই-গেটের মাধ্যমে মিনিটেই ইমিগ্রেশন পার জঙ্গিরা কোণঠাসা, ‘বাংলাদেশ’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিসিক যশোরের ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বাঘারপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
৩১

চাঁচড়া হ্যাচারী পল্লীতে রেণু পোনা বিক্রি শুরু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

বর্ষার আগমনে যশোরের চাঁচড়া হ্যাচারী পল্লীতে রেণু পোনা বিক্রি শুরু হয়েছে। এখান থেকে পাইকারি ক্রেতারা রেণু পোনা কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকেন। আশির দশকে স্বল্প পরিসরে চাঁচড়া মৎস্য হ্যাচারীতে দেশি ও বিদেশি জাতের মাছের রেণু পোনা উৎপাদন শুরু হয়। আস্তে আস্তে মাছের পোনা উৎপাদনের পরিধি বাড়তে থাকে। মাছ চাষে রুপালী বিপ্লব ঘটে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চাঁচড়া হ্যাচারী পল্লীতে। এ রুপালী বিপ্লব বেকারত্ব ঘুচানোর পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে বলে জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।

যশোর জেলা হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি মো: ফিরোজ খান জানান, আশির দশকে যশোরে মাছের রেণু উৎপাদন শুরু হয়ে পরবর্তীতে বিস্তার ঘটতে থাকে। রেণু পোনা উৎপাদনের জন্য এ জেলায় শতাধিক হ্যাচারী রয়েছে। 

হ্যাচারীগুলোতে উৎপাদিত রেণু পোনা নিয়ে পুকুর,ঘের,বাওড় ও জলাশায়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ মানুষ। 

যশোর শহরের চাঁচড়াসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠেছে শতাধিক হ্যাচারী।এসব হ্যাচারীতে রুই, কাতলা, থাই পাঙাশ, শিং, কই, মাগুর, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া,লোনা পানির টেংরা,কালবাউশ, মিরর কার্প, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু পোনা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। 

প্রতিবছর এসব হ্যাচারীতে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার রেণু পোনা বিক্রি হয়। এখানকার উৎপাদিত রেণু পোনা বিক্রি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীদেরও জীবিকা নির্বাহ হয়ে থেকে। এসব হ্যাচাীরতে উৎপাদিত সাদা মাছের রেণু পোনা দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ পূরণ করছে বলে জানান জেলা হ্যাচারী মালিক সমিতির সভাপতি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ জানান, যশোরে কার্প জাতীয় মাছ চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। স্বাদু পানির মাছের মধ্যে শিং, কৈ ও মাগুর ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশি কৈয়ের পাশাপাশি চাষ হচ্ছে থাই ও ভিয়েতনামের কৈ। এখানকার রেণু মাছের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী সুনাম রয়েছে। এসব রেণু পোনা জেলার বিভিন্ন এলাকা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া,চুয়াডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর,খুলনা, পাবনা, সাতক্ষীরা,  বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর,চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।

সূত্রে জানা গেছে, চাঁচড়া মোড়ে মুজিব সড়ক ও যশোর বাসটার্মিনাল সড়কের দুধারে স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের রেণুপোনা ক্রেতাদের সমাগমে প্রতিদিনই প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে জায়গাটি। ভোর হতে চাঁচড়া চেকপোস্ট মোড় থেকে বিশাল এলাকাজুড়ে সড়কের দুই ধারে প্রচুর সংখ্যক ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন এসে রেণু মাছের পোনা বোঝাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। এসব গাড়িতে করে দূর-দূরান্তের গন্তব্যে রেণু পোনা নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। 

যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: সাইদুর রহমান রেজা বলেন, যশোরের হ্যাচারি পল্লীখ্যাত চাঁচড়ায় উৎপাদিত ভালোমানের মাছের রেণু পোনার খ্যাতি ছড়িয়েছে দেশব্যাপী। চলতি বছরে ৭০ মেট্রিক টন রেণু পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নতজাতের ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্যে জেলা ও সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ সবধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে চাঁচড়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করা হয়েছে মাছের রেণু পোনা বিক্রির আধুনিক বিক্রয় কেন্দ্র।দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিক্রয় কেন্দ্রটি চালু করা হবে। এখান থেকে মাছের রেণু-পোনা ক্রয়-বিক্রয় স্বল্প সময়ের মধ্যে করতে পারবেন চাঁচড়া হ্যাচারী পল্লীর রেণু পো9না ক্রেতা-বিক্রেতারা। এটি চালু হলে আর্থিকভাবে লাভবান হবে এ অঞ্চলের মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর