বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অক্ষত ছিল যে পতাকা খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন
৫২

চায়না কমলা চাষে স্বপ্নপূরণ করেছেন শার্শার ইউসুফ আলি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২২  

শার্শায় উৎপাদিত এই কমলা চীনসহ অন্য যেকোনো দেশ থেকে আমদানি করা কমলার মতোই সুস্বাদু। বুক সমান গাছ। কোনোটা আবার ৫/৬ ফুট ছাড়িয়েছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া ছোট ছোট হলুদ রঙের লেবু। এরই মধ্যে অনেক ফলেই পাকা রঙ ধরেছে। ফলটির নাম 'চায়না কমলা' বা 'চায়না লেবু'। 

চীনে ব্যাপকভাবে চাষ হয় বলে ফলটির এমন নামকরণ। তবে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের স্বপ্নবাজ যুবক ইউসুফ আলির বাগানেও এই ফলটির চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। 

কমলা চাষ দেখতে আশপাশের লোকসহ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। কেউ দেখছেন, কেউবা আবার তুলছেন ছবি। 

চায়না কমলার চাষ করে স্বপ্নপূরণ করেছেন ইউসুফ আলি। এই লেবু চীনসহ অন্য যেকোনো দেশ থেকে আমদানি করা কমলার মতোই মিষ্টি ও সুস্বাদু। বিভিন্ন জাতের আম, কুল, আঙুর, কমলা, ড্রাগন, স্ট্রবেরি, মালটা, লিচু চাষের পর এবার চায়না কমলার চাষে সফল হলেন ইউসুফ। ব্যবসায়ের পাশাপাশি শখের বসে কমলা চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন শার্শার এই যুবক।   

কমলাচাষি ইউসুফ আলি জানান, তিনি ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ৩ বিঘা ৫ কাঠা জমি ১০ বছর মেয়াদে বর্গা নিয়ে ৩৮৫টি চায়না কমলার চারা রোপন করেন। সে সময় তিনি সঠিক জানতেনও না এই গাছে কেমন ফল হবে। প্রথম বছর কিছু ফল হলেও দ্বিতীয় বছর গাছ ফলে ভরে গেছে। সিত্রাং ঝড়ে ক্ষতি হতে পারে শঙ্কায় পূর্বভাসের পর বাগানের ফল পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আগাম বিক্রি করে দিয়েছেন; এতে তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন বলে জানান। 

তিনি বলেন, তিন বিঘা পাঁচ কাঠা জমিতে কমলার চাষ করতে প্রথম ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। সামান্য কিছু পরিচর্যা করলেই এ চাষে সাফল্য আসে। কমলা চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে এক মৌসুমে ৩৫-৪০ কেজি কমলা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এবং আগামী মৌসুমে প্রতিটি গাছে দুই মণ কমলা পাওয়ার আশা ইউসুফের। প্রায় প্রতিদিন দর্শনার্থীর ভিড় লেগে থাকে এই বাগান চত্বরে; তখন মনটা খুশিতে ভরে যায়, বলেন ইউসুফ। 

তিনি বলেন, সর্বপ্রথম ২০২০ সালে টেলিভিশনে একটা প্রতিবেদন দেখি 'দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে'। প্রতিবেদনটি দেখার পরে কমলা চাষের আগ্রহ জন্মায়। এরপর ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ চুয়াডাঙ্গার নেতিকুন্দ গ্রামে ওমর ফারুক এর চায়না লেবুর বাগান পরিদর্শন করি। 

সেখান থেকে ফিরে করোনা মহামারীর মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে গতি না থাকায় বর্গা নেওয়া ওই জমিটি কমলা চাষের উপযোগী করে মাটি প্রস্তুত করেন বলে জানান ইউসুফ। তার এই বাগান ঘুরে দেখা গেছে, হলুদ রঙে থোকায় থোকায় কমলা লেবুতে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান। দেখে যে কারোরই মন ভরে উঠবে। 

বাগান দেখতে আসা মিলন কবির বলেন, বাগানে প্রতিটি গাছে চায়না কমলার ফলন দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি; আমি মুগ্ধ৷ আমাদের জেলাতেও যে কমলা চাষ সম্ভব তা তারা করে দেখিয়েছে। এত সুন্দর, মিষ্টি ও সুস্বাদু চায়না কমলা উৎপাদন নিজ চোখে না দেখলে বুঝা যেত না।

দর্শনার্থী সুলতানা বেগম বলেন, পাশের গ্রামেই আমার বাপের বাড়ি, বেড়াতে আইসে শুনি এহানে কমলার আবাদ হয়ছে; তয় কমলা দ্যাখতে আইছি, কমলার গাছ দেকে ভালই লাগল।

যদি কমলার আবাদ করা হয় তাহলে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কমলা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে। তাই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে দেশের বাইরে না গিয়ে তরুণ, বেকার এবং শিক্ষিত যুবকদের চায়না কমলার বাগান করার পরামর্শ দেন ইউসুফ। 

তিনি বলেন, কমলার চারাগুলো মূলত ২ বছরের মধ্য ফলন দেয়, যা ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তিন বিঘা ৫ কাঠা  জমিতে ৩৮৫টি চারা থেকে শুরু হওয়া শখের বসে গড়ে তোলা এই বাগান এখন সাড়ে চার বিঘায় পরিণত হয়েছে। 

তিনি বাগানের নাম দিয়েছেন ‘সুরক্ষা এগ্রো প্ল্যান্ট’। কৃষি বিপ্লব করা তার উদ্দেশ্য বলে জানান এই নতুন কমলাচাষি। ঝিকরগাছার ফলের ব্যাপারী আব্দুল মজিদ এই কমলার বাগানের ফল কিনেছেন। 

তিনি বলেন, পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বাগান কিনেছি। ফল তোলা শুরু হয়েছে। নয় থেকে সাড়ে নয় লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছি।

মজিদ আরও বলেন, দেশে চায়না কমলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই কমলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রায় ফলের দামের সমান ভ্যাট ও খরচখরচা হয়ে যায়। দেশি এই ফলগুলো একশ টাকা কেজি দরেও ভালোভাবে বিক্রি করতে পারি। তাতে ভালো লাভও হয়।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল বলেন, শার্শা উপজেলার আবহাওয়া ও মাটি বিভিন্ন ফল চাষের জন্য উপযোগী। বিভিন্ন দেশি বিদেশি জাতের আম, কুল, আঙুর, কমলা, ড্রাগন, স্ট্রবেরি, মাল্টা, লিচু ও চায়না লেবু (কমলা) চাষের জন্য এই মাটি উপযোগী। চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, বেলে-দোআঁশ মাটিতে জুন-জুলাই মাসে চারা লাগালে ফেব্রুয়ারি মার্চ মাসে তাতে ফল পাওয়া যাবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর