সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১   কার্তিক ১০ ১৪২৮   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পায়রা সেতু কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় হবে বিশেষ সেল অবশেষে দেশে চালু হচ্ছে পেপ্যাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুত নেয়ার পরিকল্পনা স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে বাংলাদেশ
২৫

চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে ফিলিপাইনের কালো আখের চাষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে চাষবাদ হচ্ছে ফিলিপাইনের কালো আখের। অন্য ফসলের চেয়ে আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় এবং বাজারে এ জাতের আখের চাহিদা থাকায় চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। 

এ আখ চাষে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়  ১ লাখ টাকা কিন্তু খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হয় দেড় লাখ টাকা প্রায়। তাই প্রতি বছর এ আখ চাষ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায়।

ফিলিপাইনের কালো আখ খেতে মিষ্টি, রসালো ও নরম। আখের গায়ের রঙ কালো হলেও ভেতরের রঙ সাদা। বাজারে প্রচলিত আখ থেকে ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি। 

আখ লম্বায় বড় হওয়ায় বাঁশের মাচা দিতে হয়। প্রতি পিচ আখ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা দরে। চুয়াডাঙ্গায় আখের চাহিদা মিটিয়ে মাঠ থেকে আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পার্শ্ববর্তী জেলার ক্রেতারা। 

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হারিছ চৌধুরী ২০১৮ সালে সর্বপ্রথম ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে এ জাতের আখের চারা পান। 

তিনি প্রথমে তিন কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আখ চাষ করেন। ফলন, আখের মান ভালো, বাজরে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় পরের বছর সাড়ে চার বিঘা জমিতে চাষ করেন। তিনি আখের চারা তৈরি করে জেলার অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। প্রতিটি আখের চারা ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা চারা নিয়ে যাচ্ছেন। 

এক বিঘা জমিতে আখ চাষের জন্য ২৫০০ চারা রোপণ করতে হয়। এখান থেকে প্রায় ৯-১০ হাজার আখ পাওয়া যায়। একটি আখ গাছ থেকে ৯-১১টি আখ পাওয়া যায়। আখ চাষ করতে হয় উঁচু জমিতে। প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ দিতে হয়। তারপর লম্বা লম্বা সারি করে আখের চারা রোপণ করতে হয়। নিয়মিত আখ ক্ষেত পরিচর্যা করতে হয়। রোগ বালাই তুলনামূলক কম। আখ রোপণের ১০ মাস পর বাজারে বিক্রির উপযুক্ত হয়। 

বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলায় ১০০ বিঘা জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। গাছ লাগানোর পর একটি আখ লম্বায় ১৫-২০ ফুট হয়। আখ ভেঙে না যায় সেজন্য বাঁশ, সুতা ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করতে হয়। মাচা না দিলে ঝড় ও বাতাসে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। ১০০ বিঘা জমি থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৯ লাখ আখ উৎপাদন হবে। 

আখ ক্ষেতের শ্রমিক আরশেদ বাবু বলেন, হারিছ চৌধুরীর আখ ক্ষেতে নিয়মিত কাজ করি। আগাছা পরিষ্কার, পাতা কাটা, সার ও কীটনাশক ছিটায়। দিন হাজিরা ৩০০ টাকা পায়।  

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়নের দিননাথপুর গ্রামের আখ চাষি হারিছ চৌধুরী বলেন, প্রথমে অল্প জমিতে এ জাতের আখ চাষ করি। আখের ফলন ভাল হওয়ায় চাষে আগ্রহ দেখায়। বড় পরিসরে আখ চাষ করার জন্য নিজেই চারা তৈরি করে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে এ মৌসুমে আখ লাগায়। ৬ লাখ টাকা লাভ হতে পারে। আখ চাষ দেশে ছড়িয়ে দিতে চারা উৎপাদন করছি।  

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি গ্রামের আখ চাষি সোহান আলি জানান, দুই বিঘা জমিতে ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ করছি। আখের চারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে অন্য কৃষকদের কাছে। আখ চাষ লাভজনক। নতুন উদ্যোক্তারা আখ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে। 

চুয়াডাঙ্গা রোয়ালমারি গ্রামের কৃষক মফিজ জোয়ার্দ্দার বলেন, ১ বিঘা জমিতে এ বছর আখ চাষ করবো। চারা তৈরি করার জন্য ১৩০টি ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ কিনে আনলাম দিননাথপুর গ্রাম থেকে। ৫০ টাকা করে প্রতি পিচ আখের দাম। অন্য ফসল চাষ লাভজনক না হওয়ায় আখ চাষ করবো। 

ঢাকা সাভারের আখ ক্রেতা জলিল ব্যাপারী বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কালো জাতের আখ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চাহিদা রয়েছে অনেক। ৩ হাজার আখ কিনে ট্রাকযোগে সাভারে নিয়ে আসলাম। প্রতিটি আখ ২৫-৩০ টাকা লাভে বিক্রি করতে পারব। কারণ আখগুলো অনেক লম্বা ও মোটা। 

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুফি মো. রফিকুজ্জামান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় কৃষকরা নতুন ফসল চাষে আগ্রহী। ফিলিপাইনের কালো জাতের আখ চাষ হচ্ছে। চিবিয়ে খাওয়ার মত একটি আখ। আখ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উঁচু জমিতে এ জাতের আখ চাষ করলে ফলন ভাল হয়। কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর