মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আশ্বিন ১১ ১৪২৯   ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন নিউজ উইকে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের গল্প অবহেলিত মেটে আলু স্বপ্ন দেখাচ্ছে চৌগাছাবাসীকে যশোর-ঝিনাইদহ-মাগুরায় শাক সবজির বিরাট ফলন অভিশপ্ত ইনডেমনিটি ও ইতিহাসের কালো আইন যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে টিকে রইল ৫২ প্রার্থী ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় কালনা মধুমতি সেতু
৩৪

চৌগাছায় ইউরিয়া সার নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

যশোরের চৌগাছায় আমনের ভরা মৌসুমে সার নিয়ে নয় ছয় শুরু হয়েছে। সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করায় চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি, ডিএপি সার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তায় ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ডিলারদের জন্য বরাদ্দ করা ভর্তুকির সার সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে আমদানিকারকদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তুলে নিচ্ছেন। তাঁদের হাত থেকে সেই সার চলে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে। এর ফলে ভুর্তুকির সার কৃষকদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো তদারকি নেই বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন।

ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধির কারণ কি জানতে চাইলে চৌগাছার একজন সার ডিলার জানান, চৌগাছায় চাহিদার তুলনায় সার দেওয়া হয়েছে অর্ধেক । তিনি বলেন , গত মাসে তিনি নিজে বরাদ্দ পেয়েছেন ৬১.২৫ মেট্রিক টন। অথচ তার এলাকায় সারের চাহিদা রয়েছে ৯০/১০০ মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিসিআইসি’র তালিকাভুক্ত ১৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২০৫০ মে.টন বিপরীতে পেয়েছেন ৯৮০মে. টন, টিএসপি চাহিদা ছিল ৪০০মে.টন বিপরীতে পেয়েছেন ১৩২ মে.টন, ডিএপি ৮৫০ মে.টন বিপরীতে পেয়েছেন ২৯৭ মে.টন, এমওপি ১৫০০ মে.টনের বিপরীতে পেয়েছেন ২১৭ মে.টন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক পর্যায়ে সরকার-নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ১০০ টাকা হলেও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৩০০-১৪০০ টাকা, টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ১০০ টাকা হলেও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা, এমওপি খুচরা মূল্য ৭৫০ টাকা হলেও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০০-১০০ এবং ডিএপি ৮০০ টাকা হলেও খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা।

সূত্র মতে, ডিলারের মাধ্যমে উপজেলার কৃষকদের সারের চাহিদা মেটাতে বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু কিছু ডিলারেরা সার উত্তোলন না করে আইন ভেঙ্গে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও অধিক মুনাফার লোভে সার বিক্রি করা হয়ে থাকে। যে কারণে উপজেলার কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী সার পান না। একারণে অতিরিক্তি দাম দিয়ে সার কিনতে হয়।

উপজেলার পুডাপাড়া গ্রামের কৃষক ফজের আলী জানান, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইউরিয়া সার ১ হাজার ১০০ টাকা হলেও ইউরিয়া ১২৫০ টাকা বস্তা এবং ডিএপি ৮০০ টাকা হলেও ১১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া বেলেদাড়ী গ্রামের গোলাম মোস্তফা এক বস্তা ডিএপি এক হাজার ২৫০ টাকায় কিনেছেন। একই উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আহসান উল্লাহ জানান, এক বস্তা ইউরিয়া সার তিনি ১ হাজার ৩০০ টাকায় এবং এক বস্তা ডিএপি ১১০০ টাকায় কিনেছেন। কয়ারপাড়া গ্রামের কৃষক রফিউদ্দীন বলেন, কিছু দিন আগে তিনি ডিএপি এক হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার সমরেন বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের চাহিদা তুলনায় সারের সরবরাহ কম থাকায় একটু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তবে সরকারের বরাদ্দকৃত সার সঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান । তিনি আরো বলেন যেসকল ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ঠকিয়ে বেশীমূল্যে সার বিক্রয় করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর