মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো
৫২

চৌগাছায় ২০১৮ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় ৫ শিক্ষক বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

যশোরের চৌগাছায় ২০১৮ সালের প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেয়ায় চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসচিবসহ কেন্দ্র কমিটির পাঁচ শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে নতুন কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম।
 
অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব ও একই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান, কেন্দ্র কমিটির সদস্য যথাক্রমে একই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল জলিল, সিনিয়র শিক্ষক সালমা খাতুন, সহকারী শিক্ষক লাকি আক্তার ও ক্রীড়া শিক্ষক রবিউল ইসলাম।
 
অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব ও চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, সোমবার প্রথম দিনের বহু নির্বাচনী (সৃজনশীল) পরীক্ষা শেষে দেখা যায় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্বরূপদাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও অন্য একটি স্কুলের ১৯ জন রেগুলার পরীক্ষার্থীকে ২০১৮ সালের প্রশ্নে (যে প্রশ্নে ক্যাজুয়ালদের নেয়ার কথা) পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং ২ জন ক্যাজুয়াল পরীক্ষার্থীকে ২০২০ (রেগুলারদের নেয়ার কথা) পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত করি। পরে তাদের লিখিত পরীক্ষা সঠিক প্রশ্নে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল। এতে শিক্ষার্থীদের রেজাল্টে কোনো প্রভাব না পড়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আজিজুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় আমিসহ পরীক্ষা কমিটির পাঁচ সদস্যকেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় তাকেসহ পরীক্ষা কমিটির পাঁচসদস্যকেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, যারা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে তাদের নতুন করে এমসিকিইউ পরীক্ষা নেয়া হয়নি। যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি ফলাফলে প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) বিষয়টি আমাকে ফোনে নিশ্চিত করেছেন। পরীক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিলেও তারা সব পেরেছে বলে জেনেছি এবং তারা খুশি। কারণ বইয়ে তেমন কোন পার্থক্য নেই। তারপরও আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। যাতে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর