বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
জিআই সনদ পেলো বাগদা চিংড়ি মধুমাসের রসালো ফলে ভরপুর যশোরের বাজার বাজেট অধিবেশন বসছে ৫ জুন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত হজের নিবন্ধনের সময় বাড়লো
২০

জীবননগরে তালের শাঁস ও ডাব বিক্রির ধুম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২  

চুয়াডাঙ্গা জীবননগরের সর্বত্রই তালের শাঁস ও ডাব বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। প্রচন্ড গরমে একটু স্বস্তির লক্ষ্যে লোকজন ডাব এবং তালের শাঁস খেতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। একদিকে তাল ও নারিকেল গাছ নির্বিচারে কাটা হচ্ছে অন্যদিকে বীজের অভাবে নতুন করে চারা রোপণ হচ্ছে না। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এর বংশবৃদ্ধি না হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ সচেতন মহল।

অত্যন্ত সুস্বাদু ও হাতের নাগালে পাওয়ায় সব শ্রেণির মানুষ এই তালের শাঁস ও ডাব ক্রয় করে খাচ্ছেন।খাওয়াচ্ছেন পরিবারের লোকদের। গাছের মালিকরা ভালো দাম পাওয়ায় পাকার আগেই গাছ থেকে কাঁচা তাল ও ডাব বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে পাকা তালবীজ ও পাকা নারিকেলের  অভাবে  বীজ সংকটে পড়ে তাল গাছ ও নারিকেল গাছের বংশ বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

একসময় জীবননগর উপজেলার প্রায় সর্বত্রই বড় বড় তাল ও নারিকেল গাছ ছিল। এসব গাছে বাস করত বাবুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এসব গাছ কমে যাওয়ায় পরিবেশবান্ধব পাখিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া তাল গাছ বজ্রপাত নিরোধ, পরিবেশবান্ধব, মাটির ক্ষয়রোধসহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী গাছ হিসেবে বিবেচিত।

তাছাড়া অল্প জায়গায় গাছগুলি বেঁচে থাকে অনেকদিন। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাল, নারিকেল  গাছ কাটা হলেও বীজের অভাবে রোপণ করা হচ্ছে না। ফলে দ্রুত তাল নারিকেল গাছ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। তালের শাঁস বিক্রেতা জীবননগর পৌর এলাকার নতুন তেতুলিয়া  গ্রামে রহমত আলী জানান, প্রতিদিন তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ তাল শাঁস  বিক্রি করেন। উপজেলা জেলায় তার মতো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি তালের শাঁস ও ডাব বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

ভালো দাম পাওয়ায় সবাই কাঁচা তাল ও ডাব বিক্রি করে দেয়। জীবননগরের  সর্ববৃহৎ নাজমুল নার্সারি স্বত্বাধিকার নাজমুল বলেন, জীবননগরের কোথাও বাণিজ্যিকভাবে তাল ও নারিকেলের চাষ হয়নি। ভালো দাম পাওয়ায় পাকার আগেই কাঁচা তাল ও ডাব বিক্রি হয়ে যায়। পাকা তাল ও নারিকেলের অভাবে আমরা নার্সারিতে চারা রোপণ করতে পারছি না। মানুষের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এসেছে। কষ্ট করে কেউ আগের মতো তাল নারিকেলের পিঠা তৈরি করেন না। অতি সহজে ডাব ও তালের শাঁস খাওয়া যায়। লোকজন সহজেই এগুলো গ্রহণ করছেন।

জীবননগর পৌরসভার মেয়র রফিকুল রফিক বলেন, এ ধরনের বড় বড় গাছ ধ্বংস হওয়ার কারণে পৌরবাসী বজ্রপাতের আশংকায় রয়েছে। দেশের স্বার্থে পরিবেশের স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাল ও নারিকেল চারা রোপণ করা উচিত।

জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন আখতার জানান তাল, নারিকেল গাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে লোকজন ডাব ও তালের শাঁস খেলেও গাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে না।

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা: জাহাঙ্গীর আলম জানান, তালের শাসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও পানি রয়েছে। এছাড়া এতে অনেক আঁশ রয়েছে। গরমে শরীররের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তালের শাস খুবই উপকারী।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর