শুক্রবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ২ ১৪২৭   ৩০ মুহররম ১৪৪২

  যশোরের আলো
৩৩৭৯৭

ব্যস্ত সময় পার করছে যশোরের ফুল চাষিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২০  

আর কয়েকদিন পর বসন্ত উৎসব। তারপর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই তিনটি দিবসের বাজার ধরতে প্রস্তুত ফুলের রাজধানী যশোরের গদখালীর ফুল চাষিরা। ভালো মানের ফুল বাজারজাত করতে এখন তারা পরিচর্যায় ব্যস্ত। এ দিবসগুলোতে ৮০ কোটি টাকার বেচাকেনা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ফুল চাষিরা।

ফুল চাষি নজরুল ইসলাম খোকন ও আলমগীর হোসেন বলেন, প্রায় চার বিঘা জমিতে জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও রজনীগন্ধা ফুল রয়েছে। বসন্ত বরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ফুল সরবরাহ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। ফুলের ভরা মৌসুমে আমাদের নাওয়া খাওয়া থাকে না। তবে তুলনামূলক ফুলের চাহিদা ও দাম এখন একটু কম। বর্তমানে গোলাপ ৩ টাকা ও গ্লাডিওলাস ২ থেকে ৪ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পহেলা বৈশাখের আগে ফুলের দাম বাড়বে বলে মনে করেন তারা। 

তারা আরও বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপণে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। যার মধ্যে ৪ হাজার চারার দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর রোপণসহ অন্যান্য খরচ আরও ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে বাড়তি। একবার চারা রোপণে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকার ফুল চাষিরা প্রতি মৌসুমে ৭টি উৎসবকে ঘিরে মূল বেচাকেনা করে থাকেন। উৎসবগুলোর মধ্যে বিজয় দিবস ও খ্রিস্টীয় নববর্ষের বেচাকেনা শেষ করেছেন তারা। আসন্ন বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ফুল বাজারে তুলতে প্রস্তুত চাষিরা। তাই গদখালীর প্রতিটি মাঠে এখন শোভা পাচ্ছে গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জিপসি, রডস্টিক, ক্যালেনড্যুলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল। 

ফুল চাষিরা বলেন, সামনে অনুষ্ঠান, তাই আশা করছি ভালো ব্যবসা হবে।

পাইকারি ব্যবসায়ী ওহেদ আলী জানান, বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে। প্রতি বছর যশোরে ফুলের আবাদ বাড়ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আমরা আশাবাদী। 

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার এ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কৃষক ৬ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ পরিচালনা করে। এবারের বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গদখালী এলাকার কৃষকরা ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার ফুল সরবরাহ করবে বলে আমি আশাবাদী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধন কুমার বিশ্বাস বলেন, এই অঞ্চলের ফুল চাষিদের জন্য সরকার ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে ফুল চাষিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল চাষিদের ব্যাংক ঋণ সহজ করতে ও ফুল সহজে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন সরকার।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর