সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১২ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
১৩

দিল্লির সাম্প্রদায়িক হামলা, নিহত বেড়ে ৩৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের হামলায় নিহত বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকশ’।

এই সময় জানায়, সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে।

কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।

দিল্লির সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে নতুন করে নিহতের খবর না এলেও উত্তর-পূর্ব দিল্লি থমথমে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, মুস্তাফাবাদ থেকে বুধবার বেশ কিছু আহত এসেছেন হাসপাতালে। তাদের অনেকের চোখে অ্যাসিড ঢালা হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়েছেন চারজন।

খুরশিদ নামে একজনের দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। তেগ বাহাদুর হাসপাতাল থেকে লোকনায়ক জয়প্রকাশ হাসপাতালে আসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও পাননি তিনি, গেছেন রিকশায়। দুই চোখসহ পুরো মুখ ঝলসে গেছে ওয়াকিলের।

এসব ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালের ‘গঙ্গাজল’ ফিল্মের কথা। অ্যাসিড দিয়ে চোখ গলিয়ে দিয়ে পুলিশের বদলা নেওয়ার ভয়াবহ কাহিনি সেটি। গুলির সঙ্গে অ্যাসিডেরও আয়োজন করা হয়েছে রীতিমতো আট ঘাট বেঁধে। বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।

দিল্লির মৌজপুর, জাফরাবাদ, কারওয়ালনগরে ও চাঁদবাগে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় দাঙ্গাকারীদের ‘শুট অ্যাট সাইট তথা দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবারপুর, গোকুলপুরি, শিব বিহার ও জোহরি এনক্লেভ মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। দিল্লির আরও ১০ জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর