সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি যৌক্তিক খুলনা-যশোর অঞ্চলে ১৭১ রেলগেটের ৯৮টি অরক্ষিত যশোরে এক মাসে হারানো ৪৯টি মোবাইল উদ্ধার বেনাপোলে পণ্য আমদানিতে অভাবনীয় গতি বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
১০

দুই-তিন মাসের মধ্যে অর্থনীতির চাপ কমবে: গভর্নর 

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২২  

দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে আছে স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেছেন, আমাদের সবচেয়ে বড় চাপ হলো- আমদানি খরচ বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি কাজ করার সুযোগ নেই। কারণ আমাদের আমদানি নির্ভরতা বেশি। তবে আমদানি নিরুৎসাহে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

জুলাইয়ে আমদানি নেমে এসেছে ৬ বিলিয়ন ডলারে। রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। ফলে আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে একটা ভালো ফল পাওয়া যাবে, অর্থনীতির চাপ কমবে। গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

টাকা ও ডলারের বিনিময় হার অস্থির হওয়ার জন্য দুটি সমস্যাকে দায়ী করে গভর্নর বলেন, হঠাৎ করে দেশের ইমপোর্ট বেড়ে গিয়েছিল। আমাদের ইমপোর্ট হলো- কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ট্রানজেকশন। এটিকে এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্স দিয়ে মিট করা হয়। যেহেতু এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্সের সমানের চেয়েও বেশি ছিল ইমপোর্ট; ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার আউটফ্লো অনেক বেড়ে যায়। 

প্রতিমাসে প্রায় দুই বিলিয়নের মতো হয়ে গিয়েছিল। যার জন্য ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমানের পতন হয়েছে। তবে এরই মধ্যে আমরা গ্যাপ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। জুলাই মাসে আমদানি ব্যয় ছয় বিলিয়নের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিমাসে ছয় বিলিয়ন আমদানি হলে বছরে খরচ ৭২ বিলিয়ন ডলার। 

আমাদের এক্সপোর্ট গত অর্থবছরে হয়েছে ৫২ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স এসেছে ২১ বিলিয়ন ডলার। ফলে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স মিলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ৭৩ বিলিয়ন ডলার। এ গতিধারায় আয়-ব্যয় হলে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য চলে আসবে। ডলারের ইনফ্লো ও আউটফ্লো সমান হলেই বিনিয়ম হারও স্থিতিশীল হবে। 

আরেকটা সমস্যা হলো- ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সবার ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট থেকেই ডলার চলে যাচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভে। তবে ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ওপেন নয়। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ালেও আমাদের সমস্যা হবে না। আশা করি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যেই চলতি হিসাবে ভারসাম্যের ঘাটতি ঠিক হয়ে যাবে। এটি ঠিক হয়ে গেলেই বিনিময় হার মার্কেটের ওপর ছেড়ে দিতে পারব।

দুর্বল ১০ ব্যাংক চিহ্নিত; সবল করার উদ্যোগ : গভর্নর বলেন, কোনো ব্যাংক বন্ধ হোক সেটি আমরা চাই না। এ জন্য র‌্যাংকিং পর্যালোচনা করে ১০টি ব্যাংককে আলাদা করেছি। আমরা চাই তারা দুর্বল থেকে সবল হোক, ব্যবসা করুক। আমাদের লক্ষ্য- ব্যাংকগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। এরই মধ্যে একটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। 

সেখানে বলেছি, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের কাজে পর্ষদ কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। যদি কেউ সমস্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রটেকশন দেবে। তবে অনিয়ম করলে অ্যাকশনে যাবে।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাস্থা এলে যতটুকু ক্ষতি না করবে; তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করবে ব্যাংকের ওপর অনাস্থা হলে। একটি ব্যাংক খারাপ করলে স্বাভাবিকভাবে অন্য একটি ব্যাংকের ওপর গিয়ে প্রভাব পড়ে। তাই আমানতকারীদের কথা চিন্তা করে তাদের অর্থ যেন নিরাপদ থাকে, সে জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সাপোর্ট দেওয়া হবে।

তারল্য সংকট ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা : গভর্নর বলেন, এখন একটা চাপ আছে তারল্য সংকট। এর মূল কারণ সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে বাজার থেকে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা তুলে আনা হয়েছে। এখন যদি এ টাকা মার্কেটে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে তারল্য সংকট কেটে যাবে। তাই যে সুদহার তুলে নেওয়ার যে আলোচনা চলছে আমি মনে করি তারল্য সংকট কেটে গেলে এ আলোচনা থাকবে না।

রাজনৈতিক চাপ নেই : রাজনৈতিক চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এখানে চাপ বলে কিছু নেই। আইনের মধ্যে থেকে কাজ করছে কিনা সেটিই প্রধান। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা আইন তৈরি করে দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। তাই তাদের আপত্তি করার কথা নয়। আমরা মনে করি রাজনৈতিক নেতারা দায়িত্বশীল, তারা আমাদের কাজে সহায়তা করবে। মালিকপক্ষের কোনো চাপে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যাংকের মালিককে এটি আমি দেখতে চাই না। আমার কাজ হলো ব্যাংককে শক্তিশালী করা। সেই কাজই আমি করছি। আমাদের লক্ষ্য ব্যাংকগুলোকে কমপ্লায়েন্সের মধ্যে আনা।

এখনই ঋণসীমা প্রত্যাহার নয় : মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দুটি কাজ করতে হয়। এর মধ্যে একটি হলো- সুদের হার বাড়াতে হবে। তাতে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের ব্যয় বেড়ে যাবে। ঋণ নেওয়ার চাহিদা কমবে। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। সুদের হার বাড়লে ভোক্তার ব্যয় বেড়ে যাবে। তাতে মানুষের চাহিদা কমে আসবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অপর কাজটি হলো- আয়কর বাড়াতে হবে। তাতে মানুষ খরচ কম করবে। বাজারে কম কেনাকাটা করবে। তাতে মূল্যস্ফীতির হার কমে যাবে। কিন্তুএই দুটোর বাইরে কাজ করছি। চাহিদা কমানোর চেষ্টা করছি। সরকারও অনেক প্রকল্প ও কাজের চাহিদা কমিয়ে আনছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কনজ্যুমার লোন কমানোর বিষয়ে নির্দেশনা আছে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাই আপতত সুদহারের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না।

শিগগিরই সেকেন্ডারি মার্কেটে লেনদেন হবে বন্ডের : আমরা শেয়ার মার্কেট নিয়ে অনেক কাজ করছি। কিন্তু বন্ড নিয়ে কাজ তেমন হয়নি। শিগগিরই সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের লেনদেন চালু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলেছে। এরই মধ্যে ট্রায়াল (পরীক্ষামূলক কাজ) হয়ে গেছে, শিগগিরই এটি লাইভে যাবে। তখন সরকারি বন্ডগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে বিক্রি হবে। ব্যাংকগুলোর প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণের মূল কারণ হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। যদি বন্ড মার্কেট কার্যকর করি তা হলে এই দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ব্যাংক থেকে কমে যাবে। খেলাপিও কম হবে। আমরা চাই ভালো ভালো কোম্পানি ক্যাপিটাল মার্কেটে বন্ড নিয়ে আসুক। তারা বন্ড ইস্যু করুক। সেকেন্ডারি মার্কেটকে কার্যকর করতে এবং নতুন নতুন বন্ড আনতে যত ধরনের সহায়তা দরকার তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে করে যাব। 

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর