সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১২ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
২১

নায়ক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

দীর্ঘ একযুগ আগে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন বাংলা সিনেমার দুই যুগের দাপুটে অভিনেতা মান্না। তবে মৃত্যুর পরও ভক্তদের হৃদয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন। আজ এই মহাতারকার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী। 

২০০৮ সালের আজকের দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতিতে জন্মগ্রহণ করেন এসএম আসলাম তালুকদার। যিনি বাংলাদেশে মান্না নামেই তুমুল জনপ্রিয়।


শৈশব থেকে সিনেমার প্রতি টান ছিল তার, পছন্দের নায়ক ছিল নায়করাজ রাজ্জাক। রাজ্জাকের সিনেমা মানেই বন্ধুদের নিয়ে হলে ছুটে যেতেন তিনি। সেই রাজ্জাকের হাত ধরেই চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় শুরু তার। টাঙ্গাইলের এসএম আসলাম তালুকদার নামের সেই কিশোর হয়তো তখনও জানতেন না যে তিনিই একদিন হয়ে উঠবেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক।

১৯৮৪ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন মান্না। সেখানে পড়াকালীন অংশ নেন নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতায়। তবে খুব সহজে সফলতা পাননি মান্না। এফডিসির অফিস পাড়ায় ঘোরাঘুরি আর নিয়মিত পরিচালকদের কাছে ধরনা দিতে হতো। যে রাজ্জাককে দেখে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখার শুরু, সেই রাজ্জাকই এক সময় তাকে সুযোগ করে দেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের। ১৯৮৬ সালে ‘নায়করাজ’ রাজ্জাকের এক বন্ধুর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত ‘তওবা’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান মান্না। কিন্তু সে সময় তেমন কোনো সাফল্য আসেনি। 

আশির দশকে মান্না যখন ছবিতে অভিনয় শুরু করেন, সে সময় রাজ্জাক, আলমগীর, জসীম, ফারুক, জাফর ইকবাল, ইলিয়াস কাঞ্চনদের নায়ক হিসেবে বেশ দাপট। সেই দাপুটে অভিনেতাদের মাঝেও ‘তওবা’, ‘পাগলী’, ‘ছেলে কার’, ‘নিষ্পাপ’, ‘পালকি’, ‘দুঃখিনী মা’, ‘বাদশা ভাই’-এর মতো ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন মান্না। দুঃখজনক হচ্ছে, এসব ছবির কোনোটিতেই মান্না প্রধান নায়ক ছিলেন না। তাই সাফল্যের ভাগীদার খুব একটা হতে পারতেন না। মান্না অভিনীত প্রথম ছবি ‘তওবা’ হলেও প্রথম ছবি হিসেবে যে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল তার নাম ‘পাগলী’। 

১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাশেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন মান্না। এ ছবিটি সুপার-ডুপার হিট হওয়ার কারণে একের পর এক ছবিতে কাজ করার সুযোগ পান মান্না। এরপর কাজী হায়াতের ‘দাঙ্গা’ ও ‘ত্রাস’ ছবির কারণে তার একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সহজ হয়ে যায়। এরপর আরো কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দেন মান্না। 

১৯৯৭ সালে লুটতরাজ সিনেমার মধ্য দিয়ে প্রযোজকের খাতায় নাম লেখান তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেন কাজী হায়াত। এরপর নিজ প্রতিষ্ঠান কৃতাঞ্জলি থেকে ছবি নির্মাণ করেন দশটিরও বেশি।

নব্বই দশকের শেষদিকে বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা শুরু হলে প্রথমেই প্রতিবাদ করেন এই মহানায়ক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মান্না একাই লড়ে গেছেন। আশির দশকে সুনেত্রা, রোজিনা, নূতন, অরুণা বিশ্বাস, শাহনাজ, নিপা মোনালিসা থেকে শুরু করে চম্পা, দিতি, কবিতার মতো সিনিয়র নায়িকাদের সঙ্গে অভিনয় করে যেমন সফল হয়েছিলেন, তেমনি মৌসুমি, শাবনূর, পূর্ণিমা, মুনমুন, সাথী, স্বাগতা, শিল্পী, অপু, নিপূণ, একার সঙ্গে তার ছবি ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছে।  হাল ধরেছিলেন শিল্পী সমিতির। ২০০৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের।

অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন দিয়ে নিজস্ব একটা স্টাইল দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। তার অভিনীত এমন কিছু চলচ্চিত্র আছে যার জন্য তিনি চিরদিনের জন্য দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একটা সময় ছিল, যখন ছবিতে শুধু মান্না আছেন- এ কারণেই দর্শক হলে ছুটে গেছেন, তার কারণেই ছবি ব্যবসাসফল হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নির্ভর ছবিতেও মান্না ছিলেন অনবদ্য।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর