মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো

নড়াইলে পানের বরজে দুর্বৃত্তের আগুনে সর্বহারা চাষি

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

নড়াইলে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে স্বপ্ন পুড়েছে পানচাষির। আগুনে পান ও বরজ পুড়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরজের মালিক প্রভাষ দাস (৫৬)। 

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার মাউলী ইউনিয়নের গন্ধববাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

পানের বরজের মালিক প্রভাষ দাস ও তার স্ত্রী বন্দনা দাস বলেন, পথের ফকির হয়ে গেলাম। কলেজপড়ুয়া ছেলে এবং পরিবার পরিজনের ব্যয়ভার নির্বাহের কোনো উপায় আর থাকল না। 

প্রভাষ দাস জানান, লোন নিয়ে প্রায় ৬ বছর আগে প্রায় ৩০ শতক জমিতে বরজ তৈরি করে পান চাষ শুরু করি। চাষের দুই বছরের মাথায় আজ থেকে চার বছর আগে গ্রামের প্রতিপক্ষরা বরজের একাংশের পান গাছের শিকড় তুলে ফেলে এবং বরজ ভেঙে ক্ষতি সাধন করে। শুধু পানের বরজের ক্ষতিসাধন করেই ক্ষান্ত হয়নি প্রতিপক্ষরা। তারা প্রভাষ দাস, স্ত্রী বন্দনা ও তার কলেজপড়ুয়া ছেলে আকাশ দাস টিটুলকে গত ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর মেরে ফেলার হুমকি দেয়। 

এ ঘটনায় কোনো উপায় না পেয়ে প্রভাষ দাস ঘটনাটি উল্লেখ করে ৪ ডিসেম্বর একই গ্রামের সঞ্জয় দাস, সুব্রত দাসসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে নড়াগাতি থানায় একটি জিডি করেন। 

ঘটনার ধারাবাহিকতায়, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা পানের বরজে আগুন দেয়। বরজের কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা টের পেয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ওই বারের আগুনে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

বিষয়টি নিয়ে মাউলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল আলম, জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাদিউজ্জামান, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. জাকারিয়া শেখসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। 

এ সময় সালিশকারীরা প্রভাষ দাসের অসহায়ত্বের কথা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে গ্রামের মানুষের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে তাকে সহযোগিতা করেন। 

স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতার টাকা এবং ধার দেনা করে পুনরায় পান চাষ শুরু করেন প্রভাষ। পান পাতায় পরিপূর্ণ বরজ থেকে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পান কাটার জন্য তিনি শ্রমিকও ঠিক করে রেখেছিলেন। আশা ছিল দামের বাজারে পান বিক্রি করে কিছুটা হলেও সচ্ছলতা ফিরে আসবে। মঙ্গলবার গভীর রাতে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনের লেলিহান শিখায় তার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। 

গন্ধববাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সুনীল দাস (৬১) জানান, এমন অমানবিক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আনসার চৌধুরী জানান, বিগত ৪০ বছরেও আমাদের এলাকায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমরা এলাকাবাসী তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 

স্থানীয় ইউপি মেম্বর জাকারিয়া শেখ বলেন, প্রকৃত জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েছি। 

নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। 

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর