মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭   ১০ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
২২৬

প্যান্টে মাংসের ঝোল লাগাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৪

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৮  

যশোরের মনিরামপুরে বরপক্ষের একজনের প্যান্টে মাংসের ঝোল লাগাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে কনের দুই ভাইসহ ৪ জন মারপিটের শিকার হন। আহতরা হলো কনের দুই ভাই মিলন ও মন্টু, চাচাতো ভাই জিললুর রহমান এবং মুকুল হোসেন।

আহতদের মধ্যে মন্টুর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এক পর্যায় গ্রামবাসি বরপক্ষের লোকজনকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে রাজগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বরপক্ষের লোকজনকে উদ্ধারসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

কনে পক্ষের স্বজনরা জানান, পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার দোস্তপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আইয়ুব হোসেনের সঙ্গে মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের ফরিদ মোড়লের মেয়ে শিলার পারিবারিকভাবে বিয়ের দিন ছিলো গতকাল। দুপুরের পর বরপক্ষের লোকজন কনে পক্ষের বাড়িতে আসলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।  এরপর বরপক্ষকে ভোজনের আয়োজন চলছিলো। এরই মধ্যে অসাবধনতাবশতঃ বরপক্ষের হুমায়ন নামের এক ব্যক্তির প্যান্টে মাংসের ঝোল লাগে। এতে হুমায়ুন ক্ষিপ্ত হয়ে ডাইনিং টেবিল ফেলে দিয়ে ভাতের গামলা ছুঁড়ে মারে কনে পক্ষের একজনকে। এরপর কনে ও বরপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায় তা সংঘর্ষে রুপ নেয়।

সংঘর্ষে বরপক্ষের হামলায় কনে পক্ষের ওই ৪ জন আহত হন। এসময় কনে পক্ষের লোকজন বরপক্ষের দোস্তপুর গ্রামের মৃত সামাদ মোড়লের ছেলে আবুল কাশেম (৬৫), আবু বক্কর সিদ্দীকি (৬২), আবু দাউদ হোসেন (৩২), আবুল কাশেমের ছেলে  হুমায়ন কবির (২৮) এবং গোলদহ গ্রামের ইসমাইল সরদারের চেলে আসিখ হোসেন (২০) কে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। 

কনের চাচাতো ভাই জিললুর রহমান জানান,  তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে। যা উভয় পক্ষের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে মিটমাটের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি বিষয়টি শুনে সেখানে যাচ্ছেন। দুই পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে বিষয়টার মিমাংসা করা হবে।

রাজগঞ্জ ফাঁড়ি কেন্দ্রের এসআই গোলাম মোর্তজা জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ ফাঁড়ি থেকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ বরপক্ষের লোকজনের উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা হলেই তাদেরকে বরপক্ষের লোকজনের জিম্মায় দেয়া হবে। তবে, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিলো বলে জানা গেছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর