বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
যশোরে বিনামূল্যে মিলছে হার্ট অ্যাটাকে জীবন রক্ষাকারী ৬ ইনজেকশন ঝিনাইদহে আয়কর দাখিলে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে শেষ ষোলোয় টিকে থাকতে রাতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ঝিনাইদহে তিন হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ বেনাপোলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ
৮৩

প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িকতা: অভিযুক্তকে তদন্ত কমিটিতে তলব

প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০২২  

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল প্রশ্নের একটি অনুচ্ছেদে নেপাল-গোপালের নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানির সাথে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে যশোর শিক্ষাবোর্ডের তিন সদস্যের কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার হাজির করা হচ্ছে প্রশ্নপত্রে অনুচ্ছেদ লেখা সেটার প্রশান্ত কুমার পালকে। তিনি ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা.সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। 

বৃহস্পতিবার তাকে তদন্ত কমিটির কাছে জবানবন্দি দিতে হবে। দেশজুড়ে তোলপাড় করা এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে অত্যন্ত সতর্কভাবে। তদন্ত কমিটির প্রধান কলেজ পরিদর্শক কেএম রব্বানী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যে উদ্দীপক লেখা হয়েছে তা শিক্ষাব্যবস্থায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই কালিমা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের গায়ে লেগেছে। এ কারণে স্পর্শকাতর ঘটনাটির তদন্ত হবে সূক্ষ্মভাবে। বুধবার থেকে শুরু হয়েছে তদন্ত।

আজ তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সেটার প্রশান্ত কুমার পাল। বুধবার রাতে তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি তাকে তার বক্তব্য প্রদান করতে ডেকেছে। এ কারণে আজ সকাল দশটায় তিনি যশোর বোর্ডে হাজির হয়ে প্রশ্ন করার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রদান করবেন।

এইচএসসির মতো পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কেন সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা লিখেছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভুলবশত অবচেতন মনে উদ্দীপকটি লিখে ফেলেছি। খারাপ মতলব ছিল না।’ প্রশান্ত কুমার পাল জানিয়েছেন, তিনি একজন কবি। কবি হওয়ায় আবেগের কারণে এমন লেখা কিনা জানতে চাইলে প্রশান্ত পাল বলেন,‘জানিনা। প্রথম প্রশ্ন করেছি। কোনো প্রশিক্ষণ নেই। বোর্ড থেকে প্রশ্ন করতে বলেছিল বলে করেছিলাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, আমার করা প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত রাখা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ভুল করে লিখে দিলাম। কিন্তু মডারেটররা কী করলেন? তারা কেন কারেকশন করলেন না।’

এদিকে, বিতর্কিত প্রশ্ন প্রণেতা প্রশান্ত পালের পরিচিতজনেরা বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবিতা লেখেন। এই অবস্থায় অবেগের বশে তিনি এ ধরনের কাজ করে থাকতে পারেন।

ঢাকা বোর্ডের এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্রে বিতর্কিত অনুচ্ছেদ দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল বিতর্কের। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে যে, খোদ শিক্ষামন্ত্রীকে এ বিষয়ে মুখ খুলতে হয়েছে। তার নির্দেশে যশোর বোর্ড সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। 

যারা এই প্রশ্নপত্র করার সাথে জড়িত তাদের মধ্যে সেটার প্রশান্ত কুমার পাল এবং চার মডারেটর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দিন শাওন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এই পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যশোর শিক্ষাবোর্ড তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর