বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০   আশ্বিন ১৬ ১৪২৭   ১৩ সফর ১৪৪২

  যশোরের আলো
৪৯

বাঘারপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার সময়েও চলছে অবৈধ কোচিং

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন যশোরের বাঘারপাড়ায় চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। 

জানা যায়, কতিপয় অসাধু শিক্ষক উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নামে-বেনামে অবৈধভাবে চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এ অঞ্চলের সচেতন সমাজ।

গত শনিবার সন্ধ্যায় এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে- উপজেলার পরিষদের আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পাশে, মহিলা কলেজ গেট, দোহাকুলা বাজারের আশপাশ থেকে শিক্ষার্থীরা কোচিং শেষ করে বের হচ্ছে। 

অপরদিকে উপজেলার সদরের বাইরে রায়পুর কলেজিয়েট স্কুল ও বাজার, ভাটার আমতলা বাজার, দূর্গাহপুর বাজার, গাইদঘাট স্কুল বাজার, খাজুরা সরকারি কলেজের পাশে, বাসস্টান্ড, খাজুরা হাইস্কুল, গরু হাট চত্বরের পাশে, চিত্রা নদীর ওয়াকওয়ে এলাকা, মথুরাপুর জান্নাতের মোড়, ব্রীজঘাট, চন্ডিপুর মসজিদের পাশে, পার্বতীপুর বটতলা, লেবুতলা তেঁতুলতলা ও স্কুল বাজার, জহুরপুর কদমতলা ও তৈলকূপ বাজার, বেতালপাড়া বাজার, কেশবপুর শান্তির মোড়সহ আশপাশ থেকে কোচিং শেষ করে দলে দলে বের হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ের কোনো না কোনো শিক্ষক এই কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

তাছাড়া, ছোট্ট একটি রুমে অল্প পরিসরে এক ঘন্টার কোচিংয়ে ১০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে একত্রে পড়ানো হচ্ছে। এতে দায়সারা গোছের পাঠদান হলেও মূলত শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ১ ঘন্টা করে মাসে ১২ দিন তাদের পড়ানো হয়। তাদের কোচিং ফি বাবদ মাসে ৫’শত থেকে ১৫’শত টাকা করে দিতে হচ্ছে। কোচিং কেনো করছো এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, কি করবো কোচিংয়ে না পরলে পরীক্ষায় পাশ করবো কি ভাবে। ক্লাসে তো আর সব কিছু ভালোভাবে শিখানো হয় না। 

এ ব্যাপারে অভিভাবকেরা জানান, ক্লাসে তো আর সব পড়ানো হয় না। ভালো ফলাফলের জন্য বাধ্য হয়েই ছেলে-মেয়েদের কোচিংয়ে পড়তে দিতে হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে এলাকার একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কোচিং এ পড়ানোর বিষয়ে অস্বীকার করেন। তবে তারা এও বলেন, তাদের অজান্তে কিছু শিক্ষক তাদের বাসা বাড়ীতে গোপনে প্রাইভেট পড়িয়ে থাকতে পারে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন খান বলেন, সরকারি নির্দেশ রয়েছে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেউ যদি কোচিং বাণিজ্য করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ জানান, সরকারি আইন মোতাবেক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকার নির্দেশ রয়েছে। কোচিং চলছে এই ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো পায়নি। তবে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন অবশ্যই এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর