মঙ্গলবার   ০৪ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

  যশোরের আলো
৬৯

বাঘারপাড়ায় রেহেনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০  

যশোরের বাঘারপাড়ায় রেহেনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রেহেনাকে সাবেক স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে তিনজন মিলে চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

রেহেনার মুখ-পা চেপে ধরে ইমামুল ও মিন্টু। আর গলায় চাকু চালায় পরকীয়া প্রেমিক নয়ন। লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নয়নের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

বুধবার যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসুর আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে অন্যতম আসামি মিন্টু মোল্লা। তিনি নড়াইল সদরের সিঙ্গিয়া গ্রামের খাজা মোল্লার ছেলে।

বিচারক জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন।

গত ২১ মার্চ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা-বামনহাটি কাঁচারাস্তার পাশের একটি পতিতজমিতে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হয় নিহত রেহেনা ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড উপজেলার চরপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের মেয়ে। এ ব্যাপারে নিহতের মা শাহিদা বেগম অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে বাঘারপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে ব্যবহৃত রেহেনার মোবাইল ফোনের সন্ধানে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে এ ফোনটি খুলনার তেরখাদার কুশলারচর গ্রামে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে নিশ্চিত হয়। এরপর মঙ্গলবার পিবিআই অভিযান চালিয়ে মিন্টু মোল্লার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে আটক ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বুধবার আটক মিন্টু মোল্লাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

জবানবন্দিতে মিন্টু মোল্লা জানিয়েছে, তিনি ভাঙ্গাড়ির ব্যবসায়ী। তার আপন মামাত ভাই নয়ন বিদেশ থেকে পাঁচ মাস আগে বাড়িতে এসেছে। নয়নের সঙ্গে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চরপাড়ার গ্রামের রেহেনার প্রেম ছিল। নয়ন ও রেহেনা গাজীপুরে ছিল। গত মার্চ মাসে নয়ন ও ইমামুল তার (মিন্টু) ইঞ্জিনচালিত ভ্যান নিয়ে মাগুরার আড়পাড়ায় যায়। সেখানে গিয়ে নয়ন রেহেনাকে ফোন দিলে আড়পাড়া আসে। নয়ন মিন্টু মোল্লাকে বলেছিল রেহেনাকে মেরে ফেলবে। এরপর তারা একসঙ্গে ভ্যানে সীমাখালি হয়ে বাঘারপাড়ার বালিয়াডাঙ্গি বাজারে গিয়ে নেমে যায়।

সে জানায়, রেহানা ও নয়ন গলা জড়িয়ে ধরে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর নয়ন রেহানার গলা চেপে ধরলে মাটিতে পড়ে যায়। রেহানার মুখ চেপে ধরে ইমামুল। মিন্টু তার পা ধরলে নয়ন চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। নয়ন রেহানার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। এরপর তারা রেহানার লাশ ফেলে রেখে চলে যায়।

নয়ন নিহত রেহানার মোবাইল ফোন মিন্টুকে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে মিন্টু মোল্লা জানিয়েছে।

জানা যায়, ঝিনাইদহ হরিণাকুন্ডু থানার চরপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামে মেয়ে রেহেনার ১০ বছর আগে নড়াইল সদরের সিঙ্গিয়া গ্রামের মিরাজের সঙ্গে বিয়ে হয়। মিরাজের মানসিক সমস্যা হলে রেহেনা তার বাবার বাড়ি চলে আসে। এর মধ্যে রেহানা চাচাতো দেবর নয়নের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। মিরাজের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

রেহানা চাকরি নিয়ে লেবাননে চলে যায়। রেহেনার উপার্জিত টাকা দিয়ে নয়নকে মালয়েশিয়া পাঠায়। নয়ন চলতি বছরের ২ মার্চ দেশে ফিরে আসে। রেহেনার গাজীপুরের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে উঠায় নয়নকে। পরদিন নয়ন বাড়িতে চলে যায়। পরে রেহানা তার ভগ্নীপতি টুটুলের বাড়ি যায়। ১৪ মার্চ রেহেনা গাজীপুরের বাসায় থাকার জন্য নয়নকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায়। ২০ মার্চ রেহেনা গাজীপুরে নয়নের সঙ্গে আছে বলে জানায়।

২১ মার্চ সকালে রেহানা ফোন করে টুটুলকে জানায়, সে ও নয়ন তার বাড়িতে বেড়াতে আসছে। এরপর টুটুলের সঙ্গে রেহানার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। এদিন দুপুরে বাঘারপাড়া পুলিশের ফোন পেয়ে থানায় গিয়ে স্বজনেরা রেহানার লাশ শনাক্ত করেন।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর