শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
৬৫

বেনাপোলে শপিং মলে উপচে পড়া ভিড়

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২০  

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট, দোকানপাট, শপিং মলসহ বিভ্ন্নি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু যশোরের বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন দোকানপাট ও শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, কোনও নিময়-বিধির তোয়াক্কা না করে পুরোদমে চলছে ঈদের কেনাকাটা। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই কোথাও। ছোট-বড় মার্কেট ও শপিং মলগুলোতে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। 

প্রায় দেড় মাস পর বেনাপোল, নাভারণ, শার্শা ও বাগআঁচড়ার সব দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট খুলে দেওয়ার পর পুরনো চেহারায় ফিরেছে বেনাপোল-শার্শা। করোনার ঝুঁকি আমলে নিচ্ছেন না কেউই।

রোববার (১৭ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেনাপোলের লালমিয়া সুপার মার্কেট, নূর শপিং কমপ্লেক্স, রহমান চেম্বার, শাহজাহান মার্কেট, ডাবলু মার্কেট, হাজি মোহাম্মদ উল্লাহ মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, হিরা সুপার মার্কেট, নাভারণের নিউ মার্কেট, তালেব প্লাজা, সোনালি মার্কেট, বাগআঁচড়া নিউ মার্কেট, আঁখি টাওয়ার, সুফিয়া প্লাজা ও বাবু মার্কেটসহ বেশিরভাগ মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়। 
শপিং মলের সামনে জীবাণুনাশক টানেল কিংবা বুথ বসানোর কথা থাকলেও সেটা করা হয়নি। নেই হাত ধোয়ার সাবান-পানিও। পরিবার থেকে শিশুদের নিয়ে বাজারে আসতে নিষেধ করা হলেও তা মানছেন না ক্রেতারা। একের অধিক লোকজন একসঙ্গে হুমড়ি খেয়ে মার্কেটে প্রবেশ করছেন।

কটি শপিং মলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়নাভারণ এলাকায় দেখা যায়, প্রখর রোদের মধ্যে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ১৫ কিলোমিটার দূর পুটখালি থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সামিয়া আক্তার। নাভারণ নিউ মার্কেটের দোকানগুলো ঘুরে দেখছেন তিনি। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা করেই বাচ্চাদের সঙ্গে করে এনেছি। তাদের পছন্দের পোশাক কেনার জন্য। প্রতি বছর রোজার শুরুতে কেনাকাটা করি। তবে সব ধরনের কাপড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি। করোনার ঝুঁকি জেনেও কেনাকাটা করতে মার্কেটে এসেছি।’

বাহাদুরপুর গ্রামের কেয়া আক্তার বলেন, ‘শুনছি আবার মার্কেট বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তাড়াহুড়া করে এসেছি। মাস্ক আনতে মনে ছিল না। একদিনে আর কী হবে?’

বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের জোসনা বেগম বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু যখন পোশাক দেখছি তখন সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আমি তখন যাব কোথায়?’

একটি শপিং মলে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়বেনাপোলের লালমিয়া সুপার মার্কেটের ‘আর ফ্যাশন কর্নার’ এর মালিক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘ঈদবাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ভিড় এড়াতে মার্কেটে আসা মানুষকে দূরে থাকতে বলেছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিচ্ছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের নির্দেশনা মেনে চলতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কুমার মণ্ডল বলেন, ‘দেশের স্বার্থে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিং মল সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা যতক্ষণ থাকছি, ততক্ষণ সবাই আইন মানছেন। চলে এলেই—যে যার মতো খুশি চলছেন।’

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর