সোমবার   ০৮ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি যৌক্তিক খুলনা-যশোর অঞ্চলে ১৭১ রেলগেটের ৯৮টি অরক্ষিত যশোরে এক মাসে হারানো ৪৯টি মোবাইল উদ্ধার বেনাপোলে পণ্য আমদানিতে অভাবনীয় গতি বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
৭৫

ভৈরব নদ দূষণকারী ১০৬ জনের তালিকা প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২২  

যশোর শহরের ভৈরব নদ দুষণকারী হিসেবে ১০৬ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসনের এক সভায় বিষয়টি জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম।

ভৈরব নদের ধারে যেসব ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানের সোয়ারেজ লাইন আছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে তা সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশের মাধ্যমে সময় দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সরিয়ে নেয়া না হয় তাহলে পরিবেশ আইনে মামলা দেয়া হবে। ভৈরব নদ দূষণ মুক্ত করার এজন্য একাজ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনে উদ্যোগে রোববার কালেক্টরেট সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী ভৈরব নদ খনন করা হয়েছে। ইতমধ্যে ৯৬ কিলোমিটারের কাজ শেষ করা হয়েছে। কোথাও কম ,কোথাও বেশি এমন ভাবে খনন করা হয়নি। দড়াটানা ব্রিজের পশ্চিম পাশে খনন কাজ আগে শেষ করা হয়েছে। এখন শুধু ড্রেসিং ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ শুরু করতে বাকি রয়েছে। রাজারহাটে ব্রিজের কারণে খনন কাজে একটু বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। যারা ভৈরব দূষণ করছে, তাদের ১০৬ জনের নামের তালিকা করা হয়েছে। কিছু হাসপাতালের সোয়ারেজ লাইনের কারণে ভৈরব দূষণ হচ্ছে। ড্রেন করার সময়  তাদের সোয়ারেজ লাইন অপসারণ করা হয়েছে। তারাই আবার ভৈরবে সোয়ারেজ লাইন দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যের পর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেছেন, যেসব ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানের সোয়ারেজ লাইনের কারণে ভৈরব দূষণ হচ্ছে। যশোর শহরের ভৈরব নদে ধারে যেসব ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানের সোয়ারেজ লাইন আছে সেসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের সোয়ারেজ লাইন সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশের মাধ্যমে সময় দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সরিয়ে নেয়া না হয়, তাহলে পরিবেশ আইনে মামলা দেয়া হবে। সেইসাথে তিনি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে আইটি পার্ক কর্তৃপক্ষকে বলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবীর বলেছেন উন্নয়ণমূলক কাজে পুলিশের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন সেটা করা হচ্ছে। যশোরের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকলে আগে পুলিশকে জানালে সেটা প্রতিরোধ করা হবে।

২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আক্তারুজ্জামান বলেছেন ঈদের পরে দুইদিন বিদ্যুৎ বিভাগ হাসপাতালের দুই ফেজ লাইন বন্ধ করে। কিছু না জানিয়ে বন্ধ করা হয়। ওই সময় অপারেশন থিয়েটারে রোগী ছিল। তাদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত জেনারেটর ব্যবস্থা আছে। বিদ্যুতের কোনো সমস্যা হলে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা প্রস্তুত থাকতে পারে। তাহলে বিদ্যুৎ সংকট হলে কোন সমস্যা হয় না। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ -২এর নির্বাহী জিএম মাহমুদ প্রধান বলেছেন, জাতীয় গ্রেডের সমস্যা ছাড়া বিদ্যুৎ বন্ধ করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ-১এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বেশি বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে যশোর পৌরসভায় ও আইটি পার্কে। এখন এ দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা যায়নি।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এম আনিছুজ্জামান বলেছেন, রুপদিয়ার ব্রিজ ১৫দিনের মধ্যে চালু করা হবে। ঠিকাদারদের জায়গা দিতে না পারার কারণে রাজারহাটের ব্রিজের কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে।

এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক রফিকুল হাসান,জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ-জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুস সাদিক, যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, মণিরামপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, জেলা ইসলামীক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বিল্লাল বিন কাশেম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর