শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
১৬ লাখ পথশিশুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হাইকোর্টের রুল ই-গেটের মাধ্যমে মিনিটেই ইমিগ্রেশন পার জঙ্গিরা কোণঠাসা, ‘বাংলাদেশ’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিসিক যশোরের ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বাঘারপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
৫৮

মনিরামপুরে লিচুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২২  

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষি ও বাগান মহাজনের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। প্রতিদিন এ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রায় লাখ টাকার লিচু বেচা-কেনা হচ্ছে। এখানকার লিচু মিষ্টি রসালো ও সু-স্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর বেশ কদরও রয়েছে।

দেশের অন্যান্য জায়গায় এপ্রিল মাসের মধ্যবর্তী সময়ে লিচুর ফলন হলেও মনিরামপুর উপজেলায় মে মাসের প্রথম দিকে লিচু বাজারে আসে।

এলাকাবাসী ও লিচু চাষিরা জানায়, উপজেলার বড় বড় বাজারগুলো এখন লিচুতে পরিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এই বাজারগুলোতে প্রায় লাখ টাকার লিচু বেচা-কেনা হয়। প্রতিদিন গভীর রাতে চাষিরা ও বাগানের মহাজনেরা লিচু নিয়ে বাজারে বেরিয়ে যায়। ভোররাত থেকে শুরু হয়ে সকাল আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই বেচা-কেনা শেষ হয়ে যায়।

তারা আরও জানান, উপজেলার প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতে একটি করে লিচু গাছ আছে। যাদের বাড়িতে একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে লিচু গাছ লাগান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক আগে থেকেই মনিরামপুর উপজেলায় লিচুর কেনা-বেচা শুরু হয়। কম শ্রমে বেশি লাভ হয় বলে ধানি জমিগুলোকেও লিচু বাগানে রূপান্তর করেছে চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, লিচু গাছে মুকুল ও গুটি আসলে প্রথম দফায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মহাজনের কাছে গাছ বিক্রি করা হয়। গাছে মুকুল ও গুটি আসার পর দ্বিতীয় দফায় আবার গাছ বিক্রি হয়। লিচু ছোট আকার ধারণ করলে তৃতীয় দফায় বিক্রি হয়। লিচু বড় আকার ধারণ করলে চতুর্থ দফায় বিক্রি হয়। তবে সব চাষিরাই গাছ বিক্রি করেন।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গভীর রাত হলেও বাজারে চাষিদের ভিড় ছিল। সময় বাড়ার সাথে সাথে লিচু চাষিদের আগমনও বাড়তে থাকে। চাষিদের কেউ কেউ কাঁধে বোঝাই করে আবার কেউ কেউ মাথায় করে লিচু নিয়ে বাজারে আসছেন। বাজারে প্রতি হাজার দেশী লিচু এক হাজার পাঁচশত টাকা থেকে দুই হাজার দুইশ টাকা, প্রতি হাজার এলাচি ও চায়না লিচু দুই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু দুই হাজার ছয়শত থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের লিচু চাষি আব্দুল কাদের বলেন, তার একটি বাগানে ৪০-৫০ টি লিচু গাছ রয়েছে এ পর্যন্ত তিনি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লিচু বিক্রি করেছেন।

একই গ্রামের ফারুক হোসেন, রাজ্জাক ও মোসলেম মোল্লাসহ একাধিক লিচু চাষিরা জানায়, তাদের প্রত্যেকেই এ পর্যন্ত লিচু বিক্রিতে লাভ ছাড়া ক্ষতি গুনতে হয়নি। লিচুর বাম্পার ফলন ও বিক্রিতে তারা সন্তুষ্ট কিন্তু প্রথম দিকে রমজান মাস হওয়ায় দামটা একটু কম ছিলো তবে ইদের পর এখন আবার বাজার ভালো দামও বেশি।

তারা আরও জানান, বাগানে যে পরিমাণ লিচু আছে তাতে আরও ২০-২৫ দিন বাজারে আসতে পারবেন তারা। এলাকার যারা ছোট ব্যবসায়ী আছে তারা আমাদের কাছ থেকে কম দামে কিনে বড় ব্যবসায়ীদের লিচু কিনে দেওয়ার ফলে বড় ব্যবসায়ীরা বাজারে না যেয়েই লিচু কিনতে পারছে তাই আগের মতো লিচু চাষিদের ভাল দাম পাওয়া যায় না। যেমন গত বছর যে ১০০ লিচু বিক্রি করেছি ২৫০ টাকা আর এবার সেই লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় শুধু এলাকার দালালদের জন্য। পুলিশ প্রশাসন যদি একটু তদারকি করত তাহলে কৃষকরা দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেত আর ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে লিচু সরাসরি কিনতে পারত।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, মনিরামপুরে এবার গত বছরের তুলনায় বেশি জমিতে লিচুর ফলন হয়েছে। বিগত বছরে নতুন বাগান গুলোতে ব্যাপক হারে পরিচর্যার কারণে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমের শীলা বৃষ্টিতে লিচু ফেটে গিয়ে ক্ষতিও হয়েছে অনেক। গোলাপি লিচুর বেচাকেনা চলছে। গোলাপি লিচুর ১৫ দিন পরেই পাকতে শুরু করবে বোম্বাই, চায়না-২ এবং বেদানা জাতের লিচু এসব লিচুতে দাম ভালো পেলে ক্ষতি না হয়ে বরং লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন এখানকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর