সোমবার   ০১ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ১৮ ১৪২৭   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
৯২

মহামারিতে আজান, জামাআত ও জুমআয় ইসলামের দিক নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২০  

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে মহামারি আক্রান্ত অঞ্চলে আজান দেয়া, নামাজের জামাআত অনুষ্ঠিত হওয়া কিংবা জুমআ অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে করণীয় কী হতে পারে? এ সব ক্ষেত্রে নির্দেশনাই বা কী?

সম্প্রতি সময়ে সর্ব প্রথম কুয়েতের মসজিদে আজানের শব্দ পরিবর্তন করে ঘরে নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে। তারপর আরব আমিরত অতপর সৌদি আরও একই পথ অনুসরণ করেছে।

এ দেশগুলো আজানের ‘হাইয়্যা আলাস-সালহ’ এর পরিবর্তে দুইটি শব্দ ব্যবহার করেছে। কেউ বলেছেন- আসালাতু ফি বুয়ুতিকুম, আবার কেউ বলেছে ‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ শব্দগুলোর অর্থ হলো বাড়িতে অবস্থান করে নামাজ পড়ুন।

কুয়েত কিংবা সৌদির আজানের শব্দে এ পরিবর্তন ইসলাম বিরোধী নয় বরং হাদিসের নির্দেশনারই অনুসরণ। এ ব্যাপারে হাদিসের নির্দেশনা হলো-
হজরত নাফি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড এক শীতের রাতে হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যাজনান নামক স্থানে আজান দিলেন। অতপর তিনি ঘোষণা করলেন- صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ
‘সাল্লু ফি রিহালিকুম’ অর্থাৎ তোমরা আবাস স্থলেই নামাজ আদায় করে নাও।’

পরে তিনি আমাদের জানালেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘লাইহি ওয়া সাল্লাম সফরের অবস্থায় বৃষ্টি অথবা তীব্র শীতের রাতে মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে বললেন এবং সাথে সাথে এ কথাও ঘোষণা করতে বললেন যে, তোমরা নিজ বাসস্থলে সালাত আদায় কর।’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

সব মাজহাবেই সমস্যার আলোকে আজানের শেষে কিংবা মাঝে শব্দ পরিবর্তন করে হাদিসের অনুসরণে আজান দেয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

আবার দুর্যোগের কারণে মসজিদের জামাআতে নামাজ ত্যাগের যেমন অবকাশ আছে তেমনি প্রয়োজনে মসজিদে জুমআ বন্ধ রাখার নির্দেশ আসলেও সেটা পালনে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে তা অসম্ভব নয়।

আবার হানাফি মাজহাবে জুমআ আদায়ের জন্য যেমন মসজিদ শর্ত নয় আবার বড় জামাআতও শর্ত নয়। ইমাম আবু ইউসুফ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে, ইমাম ছাড়া ২ জন থাকলেই জুমআ আদায় করা যায়।

সুতরাং করোনায় খারাপ পরিস্থিতির শিকার হলে প্রত্যেকেই যার যার বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জুমআ আদায় করে নিতে পারবেন।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো