শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০   কার্তিক ৮ ১৪২৭   ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
test
২৯৯

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ

মেরিন ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে শিগগির

নিউজ ডেস্ক:

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

নৌপথে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের চালান দেশে প্রবেশ রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবার গঠন করছে মেরিন ইউনিট। বিশেষায়িত এ ইউনিট প্রাথমিকভাবে কাজ করবে কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায়। মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান প্রবেশ রোধে এ ইউনিট বিশেষ ভূমিকা রাখবে। শিগগিরই এ ইউনিট কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

এ ইউনিটের জন্য জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) দুই কোটি টাকা মূল্যের দুটি স্পিডবোট দিচ্ছে। আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিডবোট দুটি হস্তান্তর করা হবে। এদিকে মেরিন ইউনিটের জন্য এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ১২ সিপাহি ইউএনওডিসির তত্ত্বাবধানে শ্রীলংকা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। এসব প্রশিক্ষিত কর্মীকে মেরিন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের সহকারী পরিচালক (এডি) মেহেদী হাসান বলেন, ইয়াবার পাচার রোধে মেরিন ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। মেরিন ইউনিটে দুটি উচ্চগতি ও ক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোট যুক্ত করার পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করছে ইউএনওডিসি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াবার মতো সর্বনাশা মাদক মিয়ানমার থেকে নাফ নদ পেরিয়ে দেশে ঢুকছে। সমুদ্রপথেও আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। মূলত নদী ও সাগরপথে ইয়াবার প্রবেশ রোধ করতেই মেরিন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। প্রথম দিকে এই ইউনিটটি কক্সবাজারের স্পেশাল জোনের অধীনে থাকবে। এই ইউনিটের প্রধান থাকবেন একজন সহকারী পরিচালক। পর্যায়ক্রমে এই ইউনিটের কার্যক্রম সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। নৌপথে অভিযানের কৌশল, বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা, স্পিডবোট চালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন, আপাতত তাদের মেরিন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, নাফ নদের এক পাড়ে বাংলাদেশের টেকনাফ, অন্য পাড়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহর। এই নদের ৫৮ কিলোমিটার অংশে দুই দেশের জলসীমা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ কিলোমিটারই টেকনাফে পড়েছে। ইয়াবাসহ মাদক পাচার, চোরাচালান এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদে টহলের ব্যবস্থা রয়েছে কোস্টগার্ড ও বিজিবির। তবে ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জলসীমায় কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে জনবল দরকার, তা টেকনাফের কোনো সংস্থারই নেই। ফলে জলসীমার বেশিরভাগ অংশই অরক্ষিত।

ইয়াবা পাচার ঠেকাতে নাফ নদে কোস্টগার্ড ও বিজিবির নিরাপত্তাব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত এই নদীতে প্রায় চার হাজার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার চলাচল করে। এর মধ্যে কিছু নৌকা ও ট্রলারে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসে। তা ছাড়া মাদককারবারিরা রোহিঙ্গা এবং টেকনাফের স্থানীয়দের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবার চালান নাফ নদ দিয়ে দেশে নিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেরিন ইউনিট গঠন করছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর