মঙ্গলবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো
৬৭

মৌসুম ঘিরে ফুলের দ্বিতীয় রাজধানীতে চলছে চাষিদের ব্যস্ততা

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

দক্ষিণাঞ্চলে ফুলের দ্বিতীয় রাজধানী নামে খ্যাতি পেয়েছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ। দেশের ফুলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার অর্ধেক পূরণ করছে এই দুই এলাকা। 

চলতি বসন্ত, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফুলচাষীরা দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট নিয়েছেন। এ কারণে ফুল প্রসেসিং ও প্যাকেটজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার চাষিরা।

ফুলচাষীরা জানান, বসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা মেটাতে কয়েকদিন ধরে তারা মহাব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন। সারাবছর ব্যস্ততা না থাকলেও ভালোবাসা দিবস, বসন্ত বরণসহ কিছু উৎসবে ফুলের চাহিদা বাড়ে ব্যাপক হারে। এ কারণে তাদের ব্যস্ততাও বাড়ে।

তারা আরো জানান, রাত পোহালেই ভালোবাসা দিবস। তাই এখন পাইকারি ও খুচরা বাজারে ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দুইদিন ধরে গোলাপ, রজনীগন্ধ্যাসহ বিভিন্ন ফুলের দামও বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জের মাটি ফুল উৎপাদনে সহায়ক। গাঁদাফুল উৎপাদনে বিখ্যাত হলেও এ উপজেলায় লিলিয়াম, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধ্যা, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের বিভিন্ন রঙের ফুল চাষ হয়। যা সারা দেশের ফুলের চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। লাভজনক হওয়ায় দিনদিন ফুল চাষ বাড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়েছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় মাঠ থেকে ফুল তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ফুলচাষীরা। সেসব ফুল দিয়ে মালা বা ঝোঁপা তৈরি করছেন ফুলকন্যারা।

কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, ফুলে ফুলে ভরে গেছে বাসস্ট্যান্ড। ফুলবোঝাই করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শত শত ছোট-বড় বাহন।

কালীগঞ্জের ফুলচাষী ও পাইকারি ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ফুল চাষ সৌখিন ও লাভজনক ব্যবসা। কালীগঞ্জের উৎপাদিত ফুল প্রায় দুই যুগ ধরে সারা দেশের ফুলের চাহিদা মেটাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ দিনগুলোতে ফুল ছাড়া চলেই না। এ কারণে ফুলের দামও বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলার বড়ঘিঘাটি গ্রামের ফুলকন্যা আয়েশা বেগম জানান, দৈনিক তিনশ টাকা মজুরিতে সারাবছর ফুলের মাঠে কাজ করে, মালা ও ঝোঁপা তৈরি করে পরিবারের খরচ ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালান তিনি।

তিনি আরো জানান, তার মতো অস্বচ্ছল পরিবারের অনেক মেয়েই ফুলকন্যা হিসেবে কাজ করেন। মৌসুম না থাকলে বাড়তি রোজগারের জন্য তারা অন্যান্য কাজও করেন।

উপজেলার সবচেয়ে বড় ফুলচাষী ত্রিলোচনপুরের টিপু সুলতান জানান, ২০১৭ সালে তিনি ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে পাঁচ বিঘা জমিতে জারবেরা ফুল চাষ করেছিলেন। যা পরের বছর বিক্রি করেছেন ৮০ লাখ টাকায়। ভালো লাভ পেয়ে এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি ফুল চাষ করেছেন। তার আশা বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষেও ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন টিপু সুলতান।

ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, সারা দেশের ফুলের চাহিদা পূরণে রাজধানীর সাভার, যশোরের গদখালীর পরই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের অবস্থান। বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ৩-৪ দিন ধরে এ অঞ্চলের ফুলচাষী ও ব্যবসায়ীরা চরম ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আশা করি, এবার সবারই ভালো লাভ হবে।

তিনি আরো জানান, বুধবার থেকে কালীগঞ্জে প্রতি ঝোঁপা গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, একশ রজনীগন্ধ্যা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়, একশ গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০-২০০০ টাকায়। প্রায় তিন যুগের মধ্যে এবারই গোলাপের দাম সবচেয়ে বেশি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর