শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
৪১৬

যশোরে নড়বড়ে বিএনপি, ফুরফুরে আ’লীগ

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

যশোরে সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই  নড়বড়ে বিএনপি’র। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের কর্মসূচি ঘরবন্দী।  ২০০৯ সালে জেলা, নগর ও থানা কমিটি হয়। এরপর আর কোনো সম্মেলন বা কমিটি করতে পারেনি তারা। আন্দোলন-সংগ্রামে যে যুবদল বা ছাত্রদলের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি, সেই যুবদলের কমিটি হয় না ১৫-১৬ বছর। শেষ কমিটি কবে গঠিত হয়েছে, তা দলের অনেক সিনিয়র নেতাই ভুলে গেছেন। ছাত্রদলেরও একই অবস্থা। কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঢাউস কমিটি অথর্ব অবস্থায় চলছে বছরের পর বছর। কমিটির বেশির ভাগ নেতার ছাত্রত্ব চলে গেছে বহু আগেই। অনেকেই সন্তানের বাপ হয়েছেন। দলের সব উপজেলা কমিটিরও একই অবস্থা। 

যশোর নগর বিএনপির সভাপতি যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ বলেন, সরকার যাতে সঠিকভাবে চলে সেজন্য শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার, সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই। 

সাংগঠনিক দুরবস্থা সম্পর্কে মারুফ বলেন, ২৯ অক্টোবর জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী জেলা বিএনপির সদস্য নার্গিস বেগম। এ ছাড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদাকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি হলে দল গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করছেন। তবে তিনি বলেন, এর আগেই যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি করা দরকার ছিল। কারণ আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, মূল দলসহ সব সহযোগী সংগঠনের কমিটি সম্মেলনের মাধ্যমে সততার সঙ্গে করতে হবে। লেজুড়বৃত্তিকে প্রাধান্য দিয়ে কমিটি করলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। 

 জোট প্রসঙ্গে মারুফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের সবচেয়ে বড় শরিক জামায়াতে ইসলামী, তাদের এখন মাঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। অন্য শরিকদের দিয়ে কেবল নামের তালিকাই ভারী করা যায়, কাজের কাজ কিছুই হয় না।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ পেলে বিএনপির যে জনসমর্থন আছে, আন্দোলন সংগ্রাম করতে আর কারও প্রয়োজন হবে না।

এদিকে ফুরফুরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জেলার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা মাছে সরব রয়েছে দীর্ঘদিনধরেই। ইদানিংকালে কেন্দ্রীয় নেতারা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে।


বিভিন্ন উন্নয়নকল্পে তাদের উপস্থিতি এলকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এতে দলীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাঙ্গা রয়েছে। এ বিষয় জেলার আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা আওয়ামী লীগ কয়েক মাস ধরে জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জঙ্গিবাদবিরোধী জনমত গঠনে অসামান্য সাফল্য দেখিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায়, স্কুল-কলেজে জঙ্গিবাদ ও নাশকতাবিরোধী সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বড় দলে সব সময়ই কিছুটা গ্রুপিং থাকে। কিন্তু ২০০৩ সালের পর যশোর আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের মাত্রা অনেক কমে আসে। ইদানীং আমরা লক্ষ্য করলাম, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফল করতে জেলা আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর