বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
১৭৯

যশোরের শিক্ষাঙ্গনে ফিরেছে পুরোনো সেই উচ্ছ্বাস

প্রকাশিত: ১৭ মার্চ ২০২২  

দুটি বছর যেন ক্রান্তিকালের মতো কেটেছে। মহামারী করোনার সবচেয়ে বড় আঘাতটা পড়েছে স্কুল-কলেজের উপর। তবে সকল ক্রান্তিকাল পেরিয়ে আবারও পুরোনো চেহারা ফিরে পেয়েছে দেশের শিক্ষাঙ্গন।

চৈত্রের প্রথমদিনে রোদ-গরম উপেক্ষা করেই লাইন ধরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন যশোরের শিক্ষার্থীরা। মায়ের হাত ধরে নির্ধারিত প্রিয় পোশাক পরেখুশির ঝিলিক নিয়ে রাস্তায় দেখা গেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতি জানিয়েছেন, ‘আমার স্কুল আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন আর শুধু একদিন না, প্রতিদিনই হবে ক্লাস। খুব খুশি লাগছে।’ 

৭২৬ দিন পর মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল থেকেই যশোরের প্রতিটি রাস্তায় ছিল শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে সকলেরই পরনে স্কুলের নির্ধারিত পোশাক।

সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদ-গরম উপেক্ষা করেই স্কুল-কলেজগুলোর ফটকের সামনে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা সময়মতো হাজির হয়েছেন। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে দেখা যায়। যেসকল শিক্ষার্থীদের মাস্ক ছিলো না, সেই শিক্ষার্থীদের গেটেই মাস্ক দেওয়া হয়েছে।

স্কুল-কলেজের সামনে দেখা গেছে চিরচেনা সেই অভিভাবকদের জটলা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে পত্রিকা বিছিয়ে চলেছে তাদের খোশগল্প। প্রায় দুই বছর পর আবারও এমন দৃশ্য চোখে গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় স্কুল-কলেজগুলোর সামনে ঝাঁলমুড়ি, চানাচুরসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো বসার নিষেধ থাকলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সামনে বসতে দেখা গেছে ওইসব দোকানপাট। 

তারপরেও করোনার প্রাদুর্ভাবে দুই বছর শিক্ষা বিভাগে নানা চড়াই-উতরাইয়ের পর আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফেরায় খুশিতে উচ্ছসিত শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী।

মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুল পুরাপুরি না খোলার কারণে অনেক শিশুর ক্ষতি হয়ে গেছে। স্কুলে যাওয়ার অভ্যাস নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার প্রতিদিন স্কুল খুলে দেওয়ায় খুবই ভালো হয়েছে। এখন ওরা পড়ালেখায় মনোযোগী হবে।

যশোর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা শিরীন সুলতানা বলেন, সব শ্রেণির শিক্ষার্থী আসায় পুরনো চেহারায় ফিরেছে শিক্ষাঙ্গন। দীর্ঘদিন পর এটি হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা পুরো ক্যাম্পাসেই স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, যশোরে প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো। যারা আসেনি, সেই শিক্ষার্থীদের বাসায় খোঁজ খবর নিতে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছি। স্কুল খোলার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুন্দরভাবে পরিস্কার করার নির্দেশনা দিয়ে ছিলাম। সেই অনুযায়ী জেলায় যশোরের ৮ উপজেলায় এক হাজার ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সকল শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য করোনাকাল বিবেচনায় ২০২০ সালের ২০ মার্চ সরকারি সিদ্ধান্তে এতোদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে ক্লাস চললেও এদিন থেকে শুরু হয়েছে সশরীরে সবার উপস্থিতিতে পাঠদান। শুধু পাঠদান নয়; হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অ্যাসেম্বিলি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর