শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২   আষাঢ় ১৭ ১৪২৯   ০১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
১৬ লাখ পথশিশুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে হাইকোর্টের রুল ই-গেটের মাধ্যমে মিনিটেই ইমিগ্রেশন পার জঙ্গিরা কোণঠাসা, ‘বাংলাদেশ’ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ বিসিক যশোরের ৩০জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বাঘারপাড়া পৌরসভায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
৩২

যশোরে ফিশ ফিডের অগ্নিমূল্যে বিপাকে মাছচাষিরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২২  

যশোরে হু হু করে বাড়ছে মাছের খাবারের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন মাছচাষিরা। বিষয়টি মৎস্য সেক্টরের জন্য অশনিসংকেত উল্লেখ করে সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মৎস্যচাষি সমিতির নেতারা।

তাদের অভিযোগ, বিশ্ববাজারের অজুহাতে গত এক বছরে ফিশ ফিডের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বেড়েছে ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণের দামও। কিন্তু বাড়েনি মাছের দাম।

যশোরের মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে টংয়ে, কোয়ালিটি, গোদরেজ, এসিআই, চায়না বাংলা, নারিশ, সিপি, আলো, ভিক্টর, প্যারাগনসহ নানা কোম্পানির ফিশ ফিড প্রতি বস্তা (৩০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায়। ছয় মাস আগেও এ ফিডের দাম ছিল বস্তাপ্রতি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। তবে এক বছর আগে দাম আরও কম ছিল।

এর বাইরে মাছের খাবার রাইস পালিশ প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ৭০০-৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৬/১৭ টাকা কেজির ভুট্টা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৮/২৯ টাকায়। ৩৮ টাকা কেজির ফিশ মিলের দাম এখন ৬০ টাকা। আর ৪০ টাকা কেজির সয়াবিন খৈল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষিদের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাছের খাবারের দাম। গত এক বছরে খাবারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আর ছয়মাসে বেড়েছে দেড়গুণ। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিশ্ববাজার আর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কথা বলছেন।

কয়েকজন মাছচাষি অভিযোগ করে বলেন, ফিশ ফিড কোম্পানিগুলো ব্যবসার নামে গলা কাটছে। কারণ যেসব উপকরণ দিয়ে ফিশ ফিড তৈরি করা হয়; সেগুলো মিলিয়ে এক কেজির খরচ ৪০ থেকে ৫০ টাকার বেশি নয়। অথচ কোম্পানি থেকে বস্তাবন্দি হয়ে বেরিয়ে আসার পর তার দাম দাঁড়াচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। মাছের খাবারে গড়ে কেজিপ্রতি ৩০ টাকা শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। কোম্পানি এবং ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে এ টাকা বাড়তি মুনাফা হিসেবে চলে যাচ্ছে।

যশোরের চাঁচড়ার মৎস্যচাষি নূর আলম বলেন, ফিশ ফিড কোম্পানিগুলো কখনো বিশ্ববাজার, কখনো ইউক্রেন যুদ্ধ, কখনো জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি-এসব কথা বলে মাছের খাবারের দাম বাড়িয়েই যাচ্ছে। ফিশ ফিডের দাম মনিটরিং করার জন্য যেন কেউ নেই। বাজেটে যখন সম্পূরক শুল্ক কমানোর খবর আসলো তখন ফিডের দাম কেজিপ্রতি চার টাকা করে বাড়লো।

যশোর জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, প্রতিদিনই বাড়ছে মাছের খাবারের দাম। তবে মাছের দাম বাড়ছে না। ফলে মাছচাষিরা ভীষণ বিপদে রয়েছেন। আর শিল্পপতিরা মৎস্য সেক্টরে ঢুকে পড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের মাছচাষিদের টিকে থাকাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

তিনি ফিডের দাম কমানোসহ সংকট নিরসনে নজর দিতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মাছের খাবারের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কথা হয় টংওয়ে কোম্পানির যশোর অঞ্চলের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার (আরএসএম) আতিকুর রহমানের সঙ্গে। মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ফিশ ফিডের মৌলিক উপকরণ সবই আমদানি করতে হয়। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি সংকট এবং জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে ফিডের ওপরে।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এ অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক মাস পর টাকা দিয়েও ফিশ ফিড পাওয়া যাবে না।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, মৎস্য সেক্টরের প্রতি সরকারের আন্তরিক দৃষ্টি রয়েছে। বাজেটে মাছের খাবারের ওপর সম্পূরক শুল্কও কমানো হয়েছে। কিন্তু ফিশ ফিড তৈরির উপকরণ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারের কারণেই দাম বাড়ছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে দাম নিয়ে আসলে কিছু করার সুযোগ কম। তবে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ ও যাচাইয়ে আমরা তৎপর রয়েছি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর