রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো
৮৭

যশোর-৬ উপ-নির্বাচনে মাঠে নেই বিএনপি

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির শেষ আশার প্রদীপ ছিলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। কিন্তু সদ্য অনুষ্ঠিত সে নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় দলটির। এর নেপথ্য কারণ, সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় বিভক্তি, জনসমর্থনহীনতা, তারেক রহমানের স্বৈরাচারী আচরণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের মতো অনুরূপ চিত্র যশোর-৬ উপ-নির্বাচনেও। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় কোন উত্তাপ নেই। নেই বিন্দুমাত্র প্রচারণাও। বিশিষ্টজনরা বলছেন, বিএনপি তাদের অনাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এ কারণেই এই উপ-নির্বাচনে মাঠে নেই তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি যশোর-৬  আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ইসমত আরা সাদেক মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে এই আসনকে শূন্য ঘোষণা করা হয়। সে মোতাবেক বিভিন্ন  রাজেনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দৌঁড়-ঝাপ শুরু করে ‘ইয়েস কার্ড’ প্রাপ্তির জন্য। তবে অন্যান্য দলের মতো কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা নেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের। এমনকি নির্বাচনী এলাকায় নেই কোন প্রচারণাও। 

স্থানীয় বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। এজন্য দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই নাজুক। তারপরও কিছু প্রার্থী চাইছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। কিন্তু তারা বিগত সব নির্বাচনে নিজেদের ধারাবাহিক পরাজয়ের চিত্র দেখে পিছু হটার কথা ভাবছেন। এখন দেখা যাক, পরিস্থিতি কোন দিকে যায়?

যশোর-৬ উপ-নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে। তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, মনোনয়ন ও পদ নির্ধারণ আমাদের হাতে নেই। এটা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে। তিনিই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তার গ্রীণ সিগন্যাল পেলেই প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় বিএনপির একটি বিদ্রোহী গ্রুপ বলছে, ইতোপূর্বে সব নির্বাচনে তারেক রহমান অদক্ষ-অযোগ্যদের মনোনয়ন দিয়েছেন। এ কারণেই আজ বিএনপির কোন দলীয় কর্মসূচিতে কেউ সাড়া দেয়না। সবাই জানে দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। 

যশোর-৬ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহকারী ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ। তবে তাদের নির্বাচনী এলাকাঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের অধিকাংশই এই প্রার্থীদের চেনেন না। এমনকি তাদের কোনদিন এলাকাতেও দেখেন নি। তাই নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না দলটি।

স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, আবুল হোসেন আজাদ গত দু-দু’বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। তবে এবার দলের সাংগঠনিক অবস্থা নাজুক হওয়ায় এ আসনে তিনি লড়বেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। একই অবস্থা অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী অমলেন্দু দাস অপুরও। তিনি এই আসনে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে চাইলেও সংশয় প্রকাশ করছেন। কারণ দলের অবস্থা সুবিধার না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, মাঠের রাজনীতিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ দল বিএনপি। রাজনৈতিকভাবে ক্ষয়িষ্ণু এই দলকে তাই জনসাধারণ বিগত সবগুলো নির্বাচনে ঘৃণাভরে বর্জন করেছে। প্রমাণ করেছে, তাদেরকে জনগণ চায় না।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর