রোববার   ০৭ জুন ২০২০   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

  যশোরের আলো
১৪৫৮

যে ৪ কারণে সিটি নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় ঘটতে পারে!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২০  

বর্তমানে শিশুমৃত্যুর হার এখানেই সবচেয়ে বেশি আবার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের গড় আয় মাত্র ১.৯৯ ডলারের কম। এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জরিপে অ্যাঙ্গোলা হচ্ছে বিশ্বের ১৮১ তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও বাস্তবে নেই দলটির ছিটেফোঁটা জনসমর্থনও। কর্মীসমাগম কম থাকায় মূলত অনলাইনে প্রচারণা চালাতে বাধ্য হচ্ছে দলটি।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, লোক দেখানো এসব কর্মকাণ্ডে মানুষ আর ভুলবে না। কারণ তারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় অনেক সচেতন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালের জনসমর্থন অনেকটা শূন্যের খাতায়। তিনি পেইড লোক দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশে নেই কোন দলীয় কর্মীরা। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাইফুল ইসলাম নীরব ও এম এ কাইয়ূমের ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে তাবিথের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, যাদের দলের অভ্যন্তরেই এই অবস্থা, এতো গ্রুপিং-তাদের ভোট দিয়ে কিভাবে নির্বাচিত করি?

একই চিত্র ঢাকা দক্ষিণেও। সেখানেও মির্জা আব্বাস ও খোকা গ্রুপের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য। ইতোমধ্যে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনাও। নেই সামান্যতম জনসমর্থনও। অধিকাংশ ভোটারই বিএনপির এই প্রার্থীকে চেনেন না। পেইড লোক দিয়ে তাই ‘লোক দেখানো’ জনসমাগম করছেন ইশরাক হোসেন। তিনি পেইড কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন, প্রচারণায় তিনি গেলেই যেন ফুল ছিটিয়ে তার গুণকীর্তন করা হয়। এতে মানুষ বুঝবে তার অনেক জনপ্রিয়তা।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, তারা তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেনকে চিনেছেন ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে। বাস্তবে তাদের দেখা মেলা ভার। ইচ্ছে হলে তারা কখনো কখনো বের হচ্ছেন প্রচারণায়। তবে সেখানে থাকছে না কোন দলীয় কর্মী। টাকা দিয়ে ভাড়া করা লোকের মাধ্যমে চালানো এই প্রচারণায় মানুষ আর ভুলবে না। তারা ঠিক যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেবেন।

এমতাবস্থায় দিশেহারা বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারক বলছেন, অনুষ্ঠেয় এই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিততে হলে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সেগুলো হলো- ভোটের দিন প্রতিটি বুথে পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নেতাকর্মীদের মাঠে থাকা, ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকা। এসব মোকাবেলায় ব্যর্থ হলে ফল নিজেদের ঘরে তোলা কঠিন হবে।

এদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, আসন্ন এই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। জনসমর্থন হারিয়ে দলটি দ্বিতীয় সারির দলে পরিণত হতে পারে। এ কারণে যে কোন মূল্যেই সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেও। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্দেশনা দিয়েছেন, জয় যেন আমাদেরই হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসমর্থন না থাকাতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয় হয়েছিল বিএনপির। সেই পথে আবারও হাঁটছে দলটি। যার প্রমাণ শূন্য সমর্থনের প্রচারণায় পেইড লোক দিয়ে লোক দেখানো জনসমাগম। পাশাপাশি তাদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। রয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বেচ্ছাচারিতাও। যার কারণে অনেক নেতাকর্মী দলত্যাগের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়েছেন। সবমিলিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর