সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১২ শা'বান ১৪৪১

  যশোরের আলো
৯০

লোহাগড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হত্যায় আসামীর স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বদর খন্দকার (৪০) হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী মুন্না মোল্যা (২৫) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

মতিউর রহমান মুন্না (৩২) নামের এ আসামি জবানবন্দীতে বদর খন্দকার হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এসআই মিলটন কুমার দেবদাস।  

২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায় নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে ১৬৪ ধারায় মুন্না এই জবানবন্দী দেন।

আসামি মুন্নাকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরঘোনাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে বুধবার বিকেলে লোহাগড়া থানা এলাকা থেকে চরকালনার রুহুল ওরফে ফরিদকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রুহুল এজাহারনামীয় আসামি না হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, ব্যবসায়িক বিরোধ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বদর খন্দকারের বিরোধ চলে আসছিল। গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার আগে লোহাগড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও আ. লীগ নেতা বদর খন্দকার নিজ ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছে। পথে টিচরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বদর খন্দরকারের মৃত্যু হয়।

বদর খন্দরকারকে কুপিয়ে হত্যার পর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নিহতের স্ত্রী নাজনীন বেগম বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- নজরুল শিকদারের বড় ভাই ইবাদত শিকদার (৫০), ভাইপো জাকারিয়া শিকদার ওরফে গফফার (২৭), ভাগ্নে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আজাদ সুজন (৩৫), চাচাতো ভাই এনায়েত শিকদার (৩৫), সুজন মোল্যা (২৮), তিন ভাই ফরিদ শেখ (৫০), নজরুল শেখ (৪৫) ও পিকুল শেখ (৩৮), ফরিদ শেখের ছেলে রোমান শেখ (২৬), আকবর খন্দকার (৪৫), লাবু (৩৫), দুই ভাই মতিউর রহমান মুন্না মোল্যা (৩২) ও তারু মোল্যা (৩৬), সুরুজ মোল্যা (৪০) এবং বাদশা শেখ (৪৫)।

ঘটনার দিন বদর খন্দকার চরকালনা এলাকায় নিজের ইটভাটা থেকে মটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় বদরের কাছে ইট বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা থাকলেও আসামি আকবর খন্দকার ওই টাকা নিয়ে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বদর খন্দকারের স্ত্রী নাজমিন বেগম বলেন, আমার স্বামীকে এর আগে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন আসামিদের কয়েকজন। এ ব্যাপারে আমার স্বামী লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিলটন কুমার দেবদাস বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর