শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   আশ্বিন ১০ ১৪২৭   ০৮ সফর ১৪৪২

  যশোরের আলো
৪১

‘সুশান্ত আর আমি স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতাম’

বিনোদন ডেস্ক:

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২০  

সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু মামলায় ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুললেন রিয়া। এই অভিনেত্রী ‘ইন্ডিয়া টুডে’ চ্যানেলের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। সেখানে তিনি জানান, সুশান্তের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকতেন তিনি। এছাড়াও দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর আরও অনেক তথ্য।  

ওই সাক্ষাৎকারে রিয়া বলেন, আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। আমি সুশান্তকে ছেড়ে চলে আসার পরেও ও আমায় ফিরে ডাকল না। ফোন অবধি করলো না। আমি খুব দুঃখ পেয়েছিলাম, ভেবেছিলাম আমি অসুস্থ বলে সুশান্ত আর আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না। এতো খারাপ লেগেছিল যে ভাটকে ফোন করি।

রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে- সুশান্তের গাড়ির চালক নাকি রিয়াই বিদায় করেছেন। এ বিষয়ে রিয়া বলেন, আমি ভাবতেই পারিনি সিদ্ধার্থ পাঠানি আমার সম্পর্কে বানিয়ে বানিয়ে এমন কথা বলতে পারে! আমাকে নিয়ে অবশ্য এখন যে যা পারছে লিখছে। তবে আমি কোনো ড্রাইভার বদলাইনি। আমার কাছে কোনো ড্রাইভার আসেওনি। আমি বাড়ি ছেড়ে চলে আসার পর সুশান্তের দিদি ড্রাইভার বদল করে। 
 
রিয়া আরো জানান, সুশান্তের কোম্পানি নিয়ে তার আর শৌভিকের ভূমিকা ঘিরে নানা গুজব ছড়িয়েছে। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুশান্ত এতো ভালোবাসত শৌভিককে যে আমরা বলতাম আমার ভাই আমার সতিন। সুশান্তের জেদেই আমাদের ইতালি ট্রিপে পরে শৌভিক এসে যোগ দেয়। আর এই ভালোবাসার জন্যই সুশান্ত আমাদের দু’জনকে ওর ড্রিম প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত করে। 

সুশান্তের কোম্পানির জন্য রিয়া আর তার ভাই সমান টাকা দিয়েছেন। এমন দাবি করে রিয়া বলেন, শৌভিক-সুশান্ত মিলে রিলেটিক্স নামের সংস্থাটি শুরু করেন। সকলের এতে ৩৩.৩৩ শতাংশ টাকা দিতে হয়েছিল৷ ভাইয়ের চাকরি ছিল না বলেই ওর টাকা আমি ওর ব্যাংকে ট্রান্সফার করি। সুশান্তের কোম্পানি সংক্রান্ত শুধু এই লেনদেন হয়েছে আমাদের। বাকি সব মিথ্যা।

সুশান্ত আর রিয়ার ইউরোপ ভ্রমনের বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রিয়া বলেন, সুশান্ত আর আমার ইউরোপ ট্রিপ নিয়ে যা নয় তাই বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে সুশান্তের সব টাকা আমি নষ্ট করেছি। 

রিয়া বলেন, সুশান্ত হাই লিভিং-এ বিশ্বাস করতো। আমার প্যারিসে যাওয়ার কথা, ফ্যাশন শুটের জন্য। ওই ইভেন্ট থেকে আমায় যাতায়াত আর থাকার খরচ দিয়েছিল। সুশান্ত সে সব বাতিল করে বিজনেস ক্লাসে টিকিট কাটল। ইউরোপ ট্রিপ প্ল্যান করলো। বড় হোটেলের খরচ ও-ই দিল। আমিও নিয়েছি। কেউ কেন বলবে আমি ওর টাকায় চলেছি? বরং বলবো, এটা ওর সিদ্ধান্ত! আমরা তো স্বামী-স্ত্রীর মতোই থাকতাম। সেই ভাবেই সুশান্ত ভালোবাসা থেকেই খরচ করতো।

রিয়া আরো বলেন, শুধু আমার সঙ্গেই নয়, অনেক দিন আগে বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে ৭০ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন সুশান্ত। প্রাইভেট জেট নিয়ে গিয়েছিলেন। ওর বন্ধুরা জোর করে ওর টাকা নিয়েছিল সে সময়। তা হলে আমার ক্ষেত্রে কেন এতো কথা বলা হচ্ছে?

রিয়ার সঙ্গে সন্দীপ সিংয়ের যোগাযোগের খবর ছড়িয়েছে এরই মধ্যে। এই বিষয়ে রিয়া স্পষ্ট বলেন,  এই নামে কাউকে চিনি না। সুশান্তের এতো বন্ধু অথচ তাকে বাড়িতে দেখলাম না, ফোন করতো না। অদ্ভুত!

সুশান্তের মৃত্যুর খবর নাকি রিয়া এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন। এমন দাবি করে রিয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, খবরটি শোনার পর প্রথমে চুপ করেছিলাম। কান্না পাচ্ছিলো। কিছুই করে উঠতে পারিনি। পরে যখন সুশান্তের শেষকৃত্যে যেতে চাইলাম তখন শুনলাম, ওর পরিবার আমার নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। সেখানে আমি চাইলেও যেতে পারবো না। 

রিয়া আরো বলেন, বুঝতে পারছিলাম না কি করবো। শেষবার কি সুশান্তকে দেখতেও পারবো না? এমন তাড়না থেকেই মর্গে ছুটে যাই। ওকে শেষ বার প্রণাম করতে চেয়েছিলাম। একজন ভারতীয় জানে এই প্রণামের কী মানে! 

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর