বৃহস্পতিবার   ১৯ মে ২০২২   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯   ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
৪৮

স্থবির রাজনীতি ঈদ ঘিরে চাঙ্গা

প্রকাশিত: ১ মে ২০২২  

করোনার দুঃসময় কাটিয়ে রাজনীতি ফিরেছে পুরোনো চেহারায়। ঈদ ঘিরে স্থবির রাজনীতি এখন অনেকটাই চাঙ্গা। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ নেতা এবার নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ কাটাবেন। 

কেউ কেউ থাকছেন রাজধানীতেই। যারা ঈদের দিনটি নিজ এলাকায় কাটাবেন, তারা উৎসবে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি গণসংযোগ ও মতবিনিময়ের কাজটাও সারবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীরা ছুটছেন নিজ নিজ এলাকায়। যদিও নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি, এখন থেকেই তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চাচ্ছেন তারা। কেউ কেউ জাকাত ও দানে ব্যস্ত থাকবেন। অনেকে ঢাকায় ঈদ করলেও আগেই নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছেন। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য পাঠিয়েছেন ঈদ উপহার। ঈদের দিন ফোনে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ও করবেন। ঈদের পরও এলাকায় যাবেন কেউ কেউ।

এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন ও আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এখন থেকেই এলাকামুখী হচ্ছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তারা। ঈদ উপহার বিতরণের পাশাপাশি ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে গণসংযোগ করছেন, চা-চক্রসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সাধ্যমতো সহায়তা করছেন। বেশিরভাগ নেতা ইতোমধ্যে নিজ এলাকায় জাকাতের কাপড়, নগদ টাকাসহ ঈদসামগ্রী তুলে দিয়েছেন হতদরিদ্রের হাতে।

আওয়ামী লীগ: আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এখনও নির্বাচনের অনেক সময় হাতে রয়েছে। তবে গেল দু'বছর করোনায় রাজনীতি স্থবির থাকায় ঈদ ঘিরে এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি বললেই চলে। বর্তমানে করোনা সংকট কাটিয়ে আসন্ন ঈদ ঘিরে গণসংযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ মিলেছে। ফলে এই সুযোগ কোনোভাবেই হারাতে চাচ্ছেন না তারা। এই কারণে বেশিরভাগ নেতাই এবার ঈদে এলাকায় কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশেষ করে মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদ সদস্য- এমন নেতা এলাকায় বেশি ছুটছেন। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদেরও এলাকামুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে নানা কারণে গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন এমন নেতারা ছুটছেন এলাকায়। অধিকতর গণসংযোগ ও জনসম্পৃক্ততার প্রমাণ দিয়েই আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের বৈতরণী পার হওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারও ঈদ করবেন রাজধানী ঢাকায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে। প্রতি বছর ঈদের দিন আওয়ামী লীগসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনীতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। তবে করোনার কারণে গত দু'বছরের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের দিনে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রাখা হয়নি। অবশ্য ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছো বিনিময় করবেন বলে গণভবন সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ইতোমধ্যেই অডিও বার্তায় দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ থাকায় এবার ঢাকাতেই ঈদ করবেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় ঈদ উদযাপন করবেন। তবে ঈদের আগে ২২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে এসেছেন তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ দু'বছর পর শুক্রবার নিজ এলাকা ভোলায় গিয়েছিলেন। এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে এলাকার নেতাকর্মী ও মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসেছেন প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা। ঈদের দিন বনানীর বাসায় কাটাবেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে নোয়াখালীতে নিজের নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন তিনি। অসুস্থতার কারণে কয়েক দিন আগে তিনি বিদেশ থেকে ফলোআপ চিকিৎসা নিয়েছেন। ঈদের পরে তার এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ঈদ করবেন ঢাকায়। তিনি নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করে এসেছেন। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ঈদ করবেন ঢাকায়। তবে ঈদের পর নিজ এলাকা টাঙ্গাইলে ঘুরে আসবেন তিনি। সভাপতিমণ্ডলীর অন্য সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আব্দুর রহমান ঈদ করবেন ঢাকায়। ইতেমধ্যে একাধিকবার নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটিয়ে এসেছেন তারা। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ঈদে নিজ এলাকা চট্টগ্রামে থাকবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ নিজ জেলা কুষ্টিয়ায় ঈদ করবেন। ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় চলে গেছেন। দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে আছেন। ঈদে সেখানেই থাকবেন তিনি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঈদ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে কাটাবেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নিজ এলাকা দিনাজপুরে ঈদ করবেন। এ ছাড়া দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন নেত্রকোনায়, বিএম মোজাম্মেল হক শরীয়তপুরে, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জয়পুরহাটে, মির্জা আজম জামালপুরে এবং অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন পটুয়াখালীর নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।

বিএনপি: সরকারবিরোধী আন্দোলনে তৃণমূলে বিএনপিকে চাঙ্গা করতে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা নিজ এলাকা ঘুরে এসেছেন। এলাকায় সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। মধ্যম সারির কিছু নেতা যারা আগামীতে মনোনয়নপ্রত্যাশী তারাও এলাকায় যাচ্ছেন। ঈদ সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতারা আরও সক্রিয় হচ্ছেন। অনেকেই ঈদের দিন এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দ্বাদশ নির্বাচনের আগে আর মাত্র একটি ঈদুল ফিতর রয়েছে। তাই এবারের ঈদকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজধানীর গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'য় ঈদ করবেন। শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের দিন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করবেন ঢাকায়। ঈদের দু'দিন আগে তিনি নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুরে এসেছেন। এ ছাড়া ঢাকায় ঈদ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীতে ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকে ঢাকায় থাকবেন। আর ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু নোয়াখালীতে ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশালে নিজ এলাকায় ঈদ করবেন।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে খুলনা-৩ আসনে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য ও একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম বকুল। মাদারীপুর-১ (শিবচর) থেকে বিএনপির হয়ে নানা কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান। নেত্রকোনা-২ আসনে কাজ করছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও একাদশ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে সাবেক ছাত্রদল নেতা মামুন বিন আব্দুল মান্নান ঈদ গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

ঈদ ঘিরে নানাভাবে আরও যারা গণসংযোগ করছেন তারা হলেন- টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ঢাকা জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো, সিলেট-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ফেনী-৩ আসনে নির্বাহী কমিটির সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, নেত্রকোনা-৫ আসনে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল্লাহ ইমরান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মাহমুদুর রহমান সুমন, নাটোর-১ আসনে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, ঢাকা-১০ (লালবাগ-ধানমন্ডি) আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, বরিশাল-৫ আসনে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ অনেকেই।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর