রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

  যশোরের আলো
২৭

হরিণাকুণ্ডুতে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে সরকারি দপ্তরে হুমকি!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী উপ-পরিচালক পরিচয়ে দুটি নম্বর থেকে ফোন করে কয়েকটি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিলা বেগম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বেল্লাল হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খাঁন ও সাব-রেজিষ্ট্রার হাবিবুর রহমানের মোবাইলে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তারা জানান-দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী উপ-পরিচালক পরিচয়ে দুটি নম্বর থেকে দুদকের সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহম্মেদের নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্য তাদের হুমকি দিয়েছেন।

দুদক সহকারী উপ-পরিচালক পরিচয়ে এক ব্যক্তি বলেন, আপনি কোথায় আছেন? অফিসে থাকেন, কোথাও যাবেন না। আমি আসছি। আপনি কতদিন এই কর্মস্থলে আছেন? আপনার নামে দুদকে মামলা হয়েছে। আমি দুদকের সহকারী উপ-পরিচালক ফয়সাল আহম্মেদ বলছি।'

কিছুক্ষণ পর আবারও 'হ্যালো (অন্যজন)...আপনাকে কি স্যার ফোন দিয়েছিলো। আপনি কি বলেছেন? জানেন না স্যারের সঙ্গে কিভাবে কথা বলতে হয়। বলবেন আপনি অফিসের বাইরে আছেন, কাল আসেন। দুদকের অভিযান চলছে। আপনি সরে থাকেন, না হলে গ্রেপ্তার হবেন। আমি পুলিশ সার্কেল বলছি।'

এভাবেই গত তিনদিন ধরে তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে কথিত ওই দুদক কর্মকর্তার নম্বরে 'আপনি দুদক কর্মকর্তা কিনা, আপনার দপ্তর কোথায়' জানতে চাইলে নিজেকে আবারও একই পরিচয় দিয়ে 'আপনার সঙ্গে আগামী দিন কথা হবে' বলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও প্রতারক চক্রের অন্য সদস্য কথিত পুলিশ কর্মকর্তার ওই মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

এ বিষয়ে ওই সব দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বিষয়টি ইউএনও এবং ওসিকে জানিয়েছি। 

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি ইউএনও আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। 

ইউএনও সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। এ বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। 

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সমন্বিত খুলনা অঞ্চলের খুলনা জেলার উপ-সহকারী পরিচালক ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বিষয়টি আমিও শুনেছি। এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। আমরা তাদেরকে ধরার চেষ্টা করছি।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর