মঙ্গলবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   মাঘ ২৪ ১৪২৯   ১৫ রজব ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৭ লাখ : বিআইডিএস তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প না নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মাশরাফি আইডল, তাকে দেখে তরুণরা শিখবে যশোরে দুইদিনের আইটি মেলা ও শীত উৎসব শুরু যশোরে ১ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ ঠাঁই নেই যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে
৭৩৬২

ঐক্যফ্রন্টকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ আছে?

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

বর্তমান সরকারকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে এভাবের নির্বাচনে সামনে এসেছে ঐক্যফ্রন্ট। তারা বলছে, তারা যা চায় সেটাই যৌক্তিক চাওয়া, সেখানেই বাংলাদেশের কল্যাণ নিহত। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সেটাই বোঝাবেন বা অলরেডি বোঝাচ্ছেন। 

ভোটার মাইন্ডে এই সকল বিষয় প্রবেশ করানোর আগে অবশ্যই তাদের নিজেদের স্থান পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে একজন ভোটার হিসাবে আমি অবশ্যই প্রশ্ন করবো:

১। ঐক্যফ্রন্টে শুধুই কি বিএনপি যোগ দিয়েছে, নাকি ২০ দল ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করেছে? 

২০ দলের তরফ থেকে বলা হয়েছে বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে ২০ দলের প্রতিনিধিত্ব করে।

২। ২০ দলে অন্তর্ভুক্ত আছে জামাতসহ আরও কয়েকটি দল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল মৌলিক চেতনায় বিশ্বাসী নয়। ২০ দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির সঙ্গে স্বাধীনতার মূল মৌলিক চেতনার বাইরে ঐক্যফ্রন্ট অবস্থান নিয়েছে কি না।

৩। স্বাধীনতার মূল মৌলিক চেতনায় বিশ্বাসী নয় এমন দলের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের জোট করে ভোটারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল নয় কি?

৪। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কি?  বিএনপির অনেকেই এই বিচারে দণ্ডিত এবং অনেকের সাজা প্রাপ্তি ঘটেছে, যা কার্যকর হয়ে গেছে। 

৫। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তারেক রহমান, যিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দণ্ডিত আসামি। তার ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কি? 

৬। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জয়লাভ করলে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? 

৭। ক্যাবিনেটে বসে প্রধানমন্ত্রী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভোটারদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল নয় কি?  কারণ ভোটার দল হিসেবে কাউকে পছন্দ করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁকে পছন্দ নাও করতে পারে।

দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যফ্রন্ট যে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে সেখানে উল্লেখিত বিষয়গুলির মধ্যে কৌশলী ধোঁয়াশা বিরাজ করছে।

ভোটার মাইন্ডে ধারণ করতে একজন ভোটার হিসেবে আমি অন্তত বিষয়গুলি পরিষ্কার হতে চাই। 

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঐক্যফ্রন্টের প্রচেষ্টাকে আমি যদি বিশ্বাস করতে চাই তাহলে উক্ত জটিলতার উত্তর জানা জরুরি। 

এই সকল উত্তর না জানা থাকলে ভোটার মাইন্ডে একটি অশনি সংকেত উঁকি দেয় বৈকি। 

তাই ঐক্যফ্রন্টকেই বলতে হবে, ‘একজন ভোটার হিসাবে আমি কেন আপনাদের বিশ্বাস করবো? ভোট গ্রহণের পূর্বেই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি প্রয়োজন।’

লেখক: কলামিস্ট, সাধারণ সম্পাদক, দুর্জয় বাংলা  

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো