সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১   কার্তিক ৯ ১৪২৮   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পায়রা সেতু কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় হবে বিশেষ সেল অবশেষে দেশে চালু হচ্ছে পেপ্যাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুত নেয়ার পরিকল্পনা স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে বাংলাদেশ
৩২

বিলুপ্তির পথে মাগুরার নীল কুঠির শেষ স্মৃতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে মাগুরা সদরের হাজরাপুর এলাকায় অবস্থিত নীলকুঠির শেষ স্মৃতি। সম্ভবত ১৭৯৫ সালের দিকে যশোর জেলা থেকে বন্ডের মাধ্যমে নীল চাষ শুরু হয়। অন্যান্য স্থানের ন্যায় মাগুরা অঞ্চলও গড়ে ওঠে হাজরাপুর নীল কুঠি। চাষিদের জমি অল্প পয়সায় বন্দুক রেখে নীল চাষ করে দিতে হতো, পরে বেশি পয়সায় খালাস করে নিতে হতো। 

এখনো অনেক জমি আছে চাষি মহল থেকে নীলের জমি বলে আখ্যায়িত করে। সে সময় অনেক গুলো বড় কুঠি ছিল হাজরাপুর এলাকায়। এ ধরনের কুঠিগুলোর অধীন আবার বেশ কয়েকটি ছোট কুঠি ছিল। হাজরাপুর কুঠির অধীন রাজারামপুর, লৌহজাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি কুঠি মিলে ছিল হাজরাপুর নীল কুঠি।

তবে ইতিহাস থেকে জানা যায়, আনুমানিক ১৮০৫ সালের দিকে সম্ভবত হাজরাপুর কুঠি স্থাপিত হয়। কুঠি সংলগ্ন প্রশস্ত এবং গভীর নবগঙ্গা নদী থাকায় বন্দর গড়ে ওঠে এখানে। এখান থেকে বিলেতে নীল যেত। এই কুঠির দায়িত্বে তিনজন সাহেব ছিলেন। জগলস সি টুইডি, জেমস টুইডি এবং টমাস সি টুইডি।

 টমাস সি টুইডির পিতা জেমস টুইডি ১৮৬২ সালের ১ থেকে ১২ তারিখের দলিলে এটি দেখা যায় এবং টিসি টুইডি সাহেবের পিতা ছিলেন জেমস টুইডি ডগলস সি টুইডির সময় যখন এ অঞ্চলের শ্রমিকেরা সাহেবের অধীন কাজ করতে অস্বীকার করে, তখন আসাম থেকে কিছু উপজাতি শ্রমিক নিয়ে আসে। যে জায়গা এদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় ডগলস সাহেবের নাম অনুসারেই সে স্থানকে ডগলস নগর করা হয়।

এখানে অনেক দালান, বড় বড় দেবদারু গাছ, ঝাউগাছ, কাঠ বাদামগাছ, তমাল গাছ, বিলেতি খেজুর গাছসহ বিভিন্ন ধরনের গোলাপ ও অন্যান্য সুন্দর ফুল ফলের বাগান গড়ে ওঠে। ছিল নীল গাছ পচাবার জন্য নির্দিষ্ট জলাশয়। খেত থেকে নীলগাছ কেটে পর পর নির্দিষ্ট একটা স্থানে রাখা হতো। ১৮৪০ সালের শেষের দিকে নীল চাষ ব্যাপকভাবে শুরু হয়। এ সময় থেকে চাষিদের ওপর চরম অত্যাচার নেমে আসে। সাহেবরা নীল চাষ করতে বাধ্য করত চাষিদের। চাষিরা নীল চাষ করতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হতো। নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করা হতো। আস্তে আস্তে ইংরেজদের মতলব ও অত্যাচারের বিষয় যখন জনগণ অনুভব করতে লাগল, তখন জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ফুলে উঠতে লাগল সাধারণ মানুষ। বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠতে লাগল। সম্ভবত চৌগাছা থেকে সর্বপ্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।

মাগুরা সদরের রাউতড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী আজিজুর রহমান জানান, সম্ভবত ১৮৯৫ সালের দিকে নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর সাহেব জমি বন্দোবস্ত নিতে থাকে। আস্তে আস্তে কুঠিবাড়িতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ায় এখানকার জিনিসপত্র যে যেভাবে পারল আত্মসাৎ করতে থাকে। শ্মশান পুরিতে পরিণত হলো হাজরাপুর কুঠিবাড়ি। বন জঙ্গলে গেল পরিপূর্ণ হয়ে। হিংস্র সাপ বাঘের আবাস ভূমি হয়ে উঠল নীল অট্টালিকা। মেম সাহেবরা যে চিলে কোঠায় বসে হাওয়া খেত এটুকু শুধু অবশিষ্ট ছিল তাও আজ বিলুপ্ত! হাজরাপুর নীল কুঠিবাড়ি আজ কেবল ইতিহাস। ধারণা করা হয়, ১৯৩৫ সালের পর বা মধ্যে হাজরাপুর নীলকুঠির সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর