সোমবার   ২৫ অক্টোবর ২০২১   কার্তিক ১০ ১৪২৮   ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
উদ্বোধন হলো স্বপ্নের পায়রা সেতু কৃষি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় হবে বিশেষ সেল অবশেষে দেশে চালু হচ্ছে পেপ্যাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুত নেয়ার পরিকল্পনা স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে বাংলাদেশ
৪২

রাজবাড়ীতে ৪৪১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, ব্যস্ত সময় কাটছে মৃৎশিল্পীদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার মন্দিরগুলোতে শুরু হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর মৃৎশিল্পীরা। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে আপন মনে নিপুণ হাতে তৈরি করেছে মা দেবী দুর্গাকে। একাগ্র চিত্তে মনের মাধুরী মিশিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারে দূর্গা পূজা। এরপর ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে পূজার মূল পার্বন শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় এ ধর্মীয় উৎসব।

পুরাণ অনুযায়ী দুর্গা শব্দের অর্থ অপ্রতিরোধ্য। এ বছর মহাষষ্ঠীতে এই মহামায়া দশভূজা দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে(ঘোড়ায়) করে এবং পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে দোলায়(দোলনা) চড়ে‌ কৈলাশে ফিরবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাজবাড়ী জেলায় মোট ৪৪১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজবাড়ী সদরে ১০৪টি মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও গোয়ালন্দ উপজেলাতে ২১টি, পাংশা উপজেলাতে ১০৭টি, কালুখালি উপজেলাতে ৬১টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলাতে ১৪৮টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন মন্দিরে দেখা যায়, শিল্পীদের নিপুণ হাতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।নিখুঁতভাবে মনের মাধুরি মিশিয়ে কারিগররা ফুটিয়ে তুলেছেন দেবী দুর্গাকে। পাশাপাশি চলছে লক্ষ্মী, স্বরসতী, গণেশ ও কার্তিক, অসুর, সিংহ, মহাদেবসহ ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ। কোন কোন মন্ডবে চলছে কাঠামো তৈরির কাজ। আবার কোন কোন মন্ডবে চলছে মাটির কাজ।

রাজবাড়ী পৌর এলাকায় বড়পুল হরিতলা স্বার্বজনীন পূজা মন্দিরে গেলে প্রতিমা তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় শ্রী পলাশ পালকে। তিনি বলেন, আমি ৩০ বছর যাবত এই প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। আমার বাপ-দাদও প্রতিমা তৈরির কাজ করতো। মৌসুম এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। তাছাড়া সারা বছর বসেই থাকতে হয়। এ বছর আমি ৮টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। প্রতিমা প্রতি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিচ্ছি। তবে করোনার কারণে সবাই মজুরিও কম দিচ্ছে।

বড়পুল হরিতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি গণেশ মিত্র বলেন, আমাদের মন্দিরে প্রতি বছরই শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন হয়। এবছরও হচ্ছে। এখন প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। গত বছর করোনার কারণে সীমিত করা হয়। এবছরও করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত করা হবে। জেলা পূজা উদযাপন কমিটি থেকেও আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত বার্তা২৪.কমকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গতবারের মতো এবারেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপনের নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের দেয়া নির্দেশনা মেনেই পূজা উদযাপন করা হবে। এবছর রাজবাড়ী জেলায় ৪৪১ টি মন্দিরের পূজা উদযাপনের আয়োজন চলছে।

রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটা মন্দিরেই জেলা পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও গ্রাম পুলিশের স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে। এছাড়াও র‍্যাবের মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। দেবী বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে। আশা করছি, কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর