মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
যশোরের পুলিশ সুপারসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন রুটে ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ করলো বিআরটিএ ঝিনাইদহে কৃষকের মাঝে কৃষি-পল্লী ঋণ বিতরণ দেশীয় কিটে ২৫০ টাকায় করা যাবে করোনা পরীক্ষা গম-ভুট্টা চাষিরা কম সুদে পাবেন ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ
২১২

অভয়নগরের মেয়ের সাথে পা হারানো সেই লিমনের বিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  

১০ বছর আগে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমন নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন। যশোর অভয়নগরের রাবেয়া বসরির সঙ্গে গাটছাড়া বাঁধছেন তিনি। ২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ছিল। আজ শুক্রবার দুপুরে লিমন-রাবেয়ার বিয়ে।

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার সময় লিমনের পা হারানোর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্নের মুখে পড়েছিল র‍্যাবের অভিযান। যদিও সেটা অপরাধী চিনতে ভুল হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছিল। 

ঝালকাঠির সাতুরিয়া গ্রামের সেই কিশোর এখন সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের সহকারী প্রভাষক। বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করতে যাচ্ছেন। কনে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওপাড়া এলাকার রাবেয়া বসরী। যশোরে কনের বাড়িতেই শুক্রবার হচ্ছে বিয়ের অনুষ্ঠান।
 
লিমন হোসেন বলেন, ‘র‌্যাব আমাকে যখন গুলি করেছে, তখনও আমি জানি না কেন তারা আমাকে মেরে ফেলতে চাইছিল। পরে শুনেছি তারা অন্য একজনকে ভেবে ভুলে আমার পায়ে গুলি করেছে।ডাক্তাররা আমার একটি পা যেদিন কেটে ফেলেছে, সেদিন থেকেই আমি হাল ছাড়িনি। কখনো ভাবিনি আমি পঙ্গু।’

অদম্য শক্তির লিমন এরপর চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা, গড়েছেন ক্যারিয়ার। তিনি বলেন, ‘সব সময় গরিব বাবা-মাকে সাহস দিয়েছি, মানুষের সহযোগিতায় পড়াশুনা করেছি। আজ আমি স্বাবলম্বী, আমার এই জীবনযুদ্ধের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান মানবাধিকার সংগঠন এবং মিডিয়া অঙ্গনের। আমি মানবাধিকারকর্মী এবং মিডিয়াকর্মীদের প্রতি চিরঋণী।’

হবু স্ত্রী রাবেয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘সে (লিমন) নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, দাম্পত্য জীবনেও তিনি দায়িত্বশীল হবেন এটা বুঝেই আমি এ বিয়েতে রাজি হয়েছি।’

২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে লিমনের পায়ে গুলি করেন র‍্যাব সদস্যরা। এরপর লিমনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিমনের গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলতে হয় ঘটনার তিন দিন পর।

সে বছরই লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম ঝালকাঠি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ বিকেলে মাঠে মায়ের সঙ্গে গরু আনতে গিয়েছিলেন লিমন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন র‌্যাব  সেখানে উপস্থিত হন। পরে লুৎফর রহমান নামে এক র‌্যাব সদস্য লিমনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সন্ত্রাসী আখ্যা দেন। তখন লিমন তার পা ধরে কেঁদে বলেন, ‘আমি সন্ত্রাসী না, আমি স্টুডেন্ট। পাশের ইটভাটায় কাজ করি। খেয়া পার হয়ে স্কুলে যাই।’ এরপর লিমনের মাথায় গুলি না করে পায়ে গুলি করেন লুৎফর রহমান। 

র‍্যাবের মামলা চলার সময় ঝালকাঠির কারা হাসপাতালে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যান লিমন। জামিনে মুক্ত হয়ে ২০১৩ সালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কাঠালিয়া পিজিএস বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরের বছর মামলা দুটি থেকে লিমনকে বাদ দেয়া হয়।

সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন লিমন। এরপর কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করে ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষা সহকারী পদে যোগ দেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সহকারী প্রভাষক হিসেবে পদোন্নতি হয় লিমনের।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর