বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগ কখনো সন্ত্রাস প্রশ্রয় দেয় না এইডস রোগীদের জন্য যশোরে হচ্ছে এআরটি সেন্টার যশোরে খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সোহেল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস অক্ষত ছিল যে পতাকা খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দিলে আদালত ব্যবস্থা নেবেন
৬০

অভিশপ্ত ইনডেমনিটি ও ইতিহাসের কালো আইন

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২  

স্বাধীন বাংলাদেশ তখন সবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছিল। হঠাৎ শকুনীর মতো আবির্ভাব ঘটে কিছু বিপথগামীর। যারা ১৫ আগস্টের কালরাতে সপরিবারে নৃংশভাবে খুন করেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এখানেই থেমে থাকেনি খুনীচক্র। 

জাতির পিতাকে হত্যার ৪২ দিনের মাথায় ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনী খন্দকার মোশতাক। অধ্যাদেশে যে কোন আদালতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। আর ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই তৎকালীন স্বৈরশাসক খুনী জিয়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংযুক্ত করা হয় একটি কালো আইন। 

ইনডেমনিটি শব্দের অর্থ ‘শাস্তি এড়াইবার ব্যবস্থা’, অর্থাৎ, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ যার মাধ্যমে শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ রকম কালো আইন আগে ও পরে আর কখনই ছিল না। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, রাজিব গান্ধী, পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টো, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বন্দর নায়েককে গুলিতে হত্যার পর কোন দেশেই এমন ন্যক্কারজনক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়নি।

এই ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের ছুতায় ২১ বছর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করা হয়নি। জিয়ার মৃত্যুর পরও বিচারপতি আবদুস সাত্তার, এইচ এম এরশাদ এবং  খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলেও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বাতিল করেননি। জিয়া থেকে শুরু করে খালেদা  সব সরকারই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের পরিবর্তে করেছে পুরস্কৃত।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে ওই বছরের ১২ নভেম্বর সংসদে মানবতাবিরোধী কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল বিল পাস হয়। ঘুচানো হয় ২১ বছরের জাতীয় কলঙ্ক। খুলে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ। এভাবেই দেশ স্বাধীনের পর বিচার বিভাগকেও স্বাধীনতা দিয়েছে একমাত্র আওয়ামী লীগ।

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর