মঙ্গলবার   ০৯ আগস্ট ২০২২   শ্রাবণ ২৪ ১৪২৯   ১০ মুহররম ১৪৪৪

  যশোরের আলো
সর্বশেষ:
যশোরের পুলিশ সুপারসহ ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন রুটে ভাড়ার নতুন তালিকা প্রকাশ করলো বিআরটিএ ঝিনাইদহে কৃষকের মাঝে কৃষি-পল্লী ঋণ বিতরণ দেশীয় কিটে ২৫০ টাকায় করা যাবে করোনা পরীক্ষা গম-ভুট্টা চাষিরা কম সুদে পাবেন ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ
২৫২

সমবায়ের ভিত্তিতে চুইঝাল চাষে স্বপ্ন দেখছে মণিরামপুরের ৭০০ তরুণ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২১  

চুইঝাল রোপণ করে স্বপ্ন বুনছেন যশোরের সাতটি গ্রামের ৭০০ তরুণ-যুবক। সমবায়ের ভিত্তিতে তারা এক হয়েছেন ভাগ্য ফেরাতে। স্বপ্নবাজ এই তরুণরা গঠন করেছেন ‘খানপুর চুইঝাল প্রজেক্ট’। 

‘খানপুর চুইঝাল প্রজেক্ট’-এর আওতায় মণিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ও ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়নের চারটি গ্রামে ১০ হাজার গাছে চাষ করা হয়েছে চুইঝাল। আরো তিনটি গ্রামে চলছে চারা রোপণের তোড়জোড়। 

তিন বছর পর এই চুইঝাল বিক্রির উপযোগী হলে প্রতিটি গাছ গড়ে পাইকারি বিক্রি হবে কমপক্ষে দুই হাজার টাকায়। 

উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, আগামী ছয় বছরে এই সাত গ্রামের কয়েক লাখ গাছের প্রতিটিতে জড়িয়ে থাকবে চুইঝালের লতা! চুইঝাল প্রকল্পের এই তরুণ-যুবকদের একত্রিত করেছেন তরুণ মাসুদুর রহমান সবুজ।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যক্তি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে চুইঝালের চাষ হলেও দেশে সমবায় ভিত্তিতে লতাটির চাষ তাদের জানা মতে এই প্রথম।

চুইঝাল মসলাজাতীয় উদ্ভিদ। চুইঝাল গাছ দেখতে পানের লতার মতো। পাতা কিছুটা লম্বা ও পুরু। এর কাণ্ড বা লতা কেটে ছোট টুকরা করে মাছ-মাংস, ছোলা বা ডাল রান্নায় ব্যবহার করা হয়। রান্নার পর এর টুকরা চুষে বা চিবিয়েও খাওয়া যায়।

মাংস রান্নায় চুইঝালের ব্যবহার বেশি। এটি মাংসের তরকারিতে আনে বিশেষ স্বাদ। নামে ‘চুইঝাল’ হলেও এটি খেতে খুব বেশি ঝাল নয়। চুইঝালের কিছু ঔষধি গুণের কথাও বলা হয়। 

আগে মূলত যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা এলাকায় এর ব্যবহার হলেও প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে চুইঝালের কথা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এ কারণে দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদাও। বাজারে চুইঝাল আকৃতিভেদে ৩০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়ে থাকে। 

মণিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের নিভৃত, সবুজে ছাওয়া গ্রাম মুন্সি খানপুর। এই গ্রামেরই হাজি আনসার মোড়লের ছেলে মাসুদুর রহমান সবুজ। বুধবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের বেশির ভাগ গাছেই বেয়ে উঠেছে চুইঝালের লতা। 

কথা হলো প্রজেক্টের উদ্যোক্তা মাসুদুর রহমান সবুজের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘সাতটি গ্রাম নিয়ে এই প্রজেক্ট গড়ে তোলা হয়েছে। এরই মধ্যে মুন্সি খানপুর, লাউড়ি, সুন্দলপুর ও জামলা—এই চার গ্রামের ১০ হাজার গাছের গোড়ায় চুইঝালের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। প্রজেক্টের বাকি তিনটি গ্রাম তেঘরি, ধলিগাতি ও গোবিন্দপুরে চারা রোপণের প্রক্রিয়া চলছে।’

সবুজ জানিয়েছেন, পরে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ইতিবাচক সাড়া পান। এরপর ২০২০ সালের ১ জুন ১৩ জন মিলে খানপুর চুইঝাল প্রজেক্ট গঠন করেন। বর্তমানে দুই ইউনিয়নের সাত গ্রামে এর সদস্যসংখ্যা ৭০০।

তিন বছর পর চুইঝাল বিক্রির পর তারা প্রাপ্ত অর্থের ৩০ শতাংশ পাবেন। জমির মালিক পাবেন ৩০ শতাংশ। মূূূল বিনিয়োগকারী হিসেবে তিনি নেবেন ৩০ শতাংশ। বাকি ১০ শতাংশ অর্থ প্রজেক্টের পক্ষ থেকে কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হবে।

সবুজ বলেন, ‘আমরা এমনভাবে এগোচ্ছি যে আগামী ছয় বছর পর এই সাত গ্রামে যে কয় লাখ গাছ আছে, তার প্রতিটি বেয়ে থাকবে চুইগাছের লতা। কোনো গাছ খালি থাকবে না।’

প্রজেক্টের সদস্য ওলিয়ার রহমান ছিলেন তার নিজের ভাষায় ‘প্রায় বেকার’। সামান্য জমিতে চাষ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। এখন চুইঝাল প্রকল্পে যুক্ত হয়ে সুদিনের স্বপ্ন দেখছেন। ‘লতা বিক্রির পর আমরা সদস্যরা একেকজন কয়েক লাখ টাকা হাতে পাব। এ টাকা আমি বড় কাজে লাগাতে পারব’, বললেন ওলিয়ার।

একই রকম আশা প্রজেক্টের আরেক তরুণ সদস্য রাসেল হোসেনের। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করেন। সামান্য বেতনে চলছিল না। তাই চাকরির পাশাপাশি চুইঝাল চাষ করছেন।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আবুল হাসান বললেন, ‘মাসুদুর রহমান সবুজ মণিরামপুরের একজন উদ্যোগী কৃষক। সবুজের খানপুর চুই প্রজেক্ট ছাড়া দেশে অন্য কোথাও চুইঝাল সমবায় ভিত্তিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। এমন সমবায় ভিত্তিতে চুই চাষ দেখে অন্য এলাকার তরুণ-যুবকরাও এতে উৎসাহী হবেন।’

  যশোরের আলো
  যশোরের আলো
এই বিভাগের আরো খবর